
শেষ আপডেট: 26 February 2022 14:27
মোহন্ত সত্যেন্দ্র দাস[/caption]
রামমন্দির তৈরি শুরু হয়ে যাওয়ায় ‘রামজন্মভূমি’ বিজেপির জন্য আরও নিরাপদ এমনটাই ধারণা ছিল গোড়ায়। কিন্তু মোহন্তের মতো গেরুয়া শিবিরের অনেকেই মানছে, এবার ততটা নিরাপদ নন। যদিও সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা শোনালেন মন্দির-মসজিদ মামলার অন্যতম বিচারপ্রার্থী ইকবাল আনসারি। তাঁর সাফ কথা, ‘অযোধ্যায় বিজেপিই জিতবে।’ তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের সময়ে অযোধ্যায় মুসলমানদের কোনও বিপদ হয়নি। মানুষ এখানে শান্তিতেই বসবাস করছে।’
[caption id="attachment_2437770" align="aligncenter" width="300"]
ইকবাল আনসারি[/caption]
অযোধ্যা নিয়ে এতটা নিশ্চিত কিন্তু গেরুয়া শিবিরও নয়। বরং পরিস্থিতি আঁচ করে নাগপুরের সদর দপ্তর থেকে আরএসএসের বাছাই করা একটি টিমকে দিন দশেক আগে অযোধ্যায় মোতায়েন করেন সঙ্ঘ কর্তারা। সেই টিমের পরামর্শে প্রচারের শেষ দিন সাতেক প্রচার চালায় সাধু সমাজ। বস্তুত বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের থেকেও বেশি উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে সাধু সমাজের মধ্যে, যা অতীতে দেখা যায়নি।
আরএসএস-এর তৎপরতার কারণ স্পষ্ট, অযোধ্যাই তাদের হিন্দুত্বের গর্ভগৃহ। আর রামমন্দির আন্দোলনের সুবাদে বিজেপি দেশে, রাজ্যে রাজ্যে শাসন ক্ষমতায়। সেই রামমন্দির নির্মাণ ঘিরে উন্নয়নের প্রশ্নে মানুষের ক্ষোভ তাদেরকে ভাবাচ্ছে। নির্মীয়মান রামমন্দির এবং হনুমানগড়ি মন্দির লাগোয়া এলাকার রাস্তা চওড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অযোধ্যা প্রশাসন। তারফলে ব্যবসাপত্র গোটাতে হবে বহু দোকানিকে। আবার অন্যত্র এক্সপ্রেসওয়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও জমি যাবে বহু বাসিন্দার। বিজেপি নেতারা রামের নাম করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলে অনেকেই মুখের উপর বলে দেন রাম আগে না রুটিরুজি আগে? দেশ-বিদেশ থেকে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের কাছেও স্থানীয়দের অনেকেই এই সব কথা বলেছেন।
রামমন্দির আন্দোলন শুরুর পর থেকে একবারই মাত্র, ২০১২-তে অযোধ্যায় জিতে ছিল সমাজবাদী পার্টি। প্রাক্তন সেই বিধায়ক পবন কুমার পাণ্ডেকেই এবারও প্রার্থী করেছেন অখিলেশ যাদব ব্রাহ্মণ ভোটের সিংহভাগ নিজের ঝুলিতে আনতে। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক বেদপ্রকাশ গুপ্তা। সমাজবাদী পার্টি মনে করছে, যাদব, মুসলিম, দলিত ভোটের সমীকরণে বিজেপির হিন্দুত্বকে ঘায়েল করা যাবে।
অযোধ্যার রূপবদল ঘিরে জন-অসন্তোষ, বিজেপির বিধায়কের গ্রহণযোগ্যতার অভাব এবং জাতপাতের অঙ্কে সমাজবাদী পার্টি এবার চিন্তার কারণ গেরুয়া শিবিরের। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উপর এখন সবচেয়ে ক্ষুব্ধ যে ব্রাহ্মণরা, তারাই অযোধ্যায় সংখ্যায় বেশি। এই সব কারণেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রামমন্দিরের প্রধান মোহন্ত সত্যেন্দ্র দাসের পরামর্শে অযোধ্যা থেকে প্রার্থী না বাসনা ত্যাগ করেন।