
মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু কলকাতায়।
শেষ আপডেট: 25 May 2024 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল থেকে দিব্যি কটকটে রোদ্দুর। আকাশে হালকা মেঘের খেলা চলছিল যদিও। তবু মেঘ-রোদেই ভ্যাপসা গরমের মধ্যে কাজেকম্মে বেরিয়েছিল কলকাতা। যদিও আবহাওয়া দফতরের তরফে গত কয়েকদিন ধরেই লাগাতার সতর্কবার্তা ছিল। বলা হচ্ছিল, এখনও বঙ্গোপসাগরের ওপরে রক্তচক্ষু দেখিয়ে জমাট বাঁধছে প্রবল নিম্নচাপ। ক্রমশই তা তৈরি হবে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসবে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে। প্রভাব পড়বে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে, প্রবল বৃষ্টি হবে পূর্ব মেদিনীপুর ও দুই চব্বিশ পরগণা-সহ কলকাতায়।
কিন্তু দুপুর আড়াইটে নাগাদ আচমকাই ছন্দপতন। হঠাৎই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। শুরু হয় মেঘের গুড়গুড় ও মুষলধারায় বৃষ্টি। দমকা বাদলা হাওয়া বইতে শুরু করে। তাপমাত্রাও একধাক্কায় নেমে যায় অনেকটা। তাহলে কি ঘূর্ণিঝড় রেমালের ঝাপটাতেই বেসামাল হতে শুরু করল কলকাতা?
আজ শনিবার দুপুর সোয়া দু'টো নাগাদ নয়াদিল্লির মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়, ভোর সাড়ে পাঁচটা অবধি পাওয়া তথ্য অনুসারে, গভীর নিম্নচাপটি এখনও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর রয়েছে। গত ছয় ঘণ্টা ধরে সেটি ১৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে এগিয়ে চলেছে উত্তর দিকে। বর্তমানে সেটির অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ থেকে ৪৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে। ক্রমশ উত্তরদিকে যত এগোবে, বঙ্গোপসাগরের ওপর তীব্র জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে তা আরও ভয়ানক হয়ে উঠবে এবং একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে আগামীকাল ২৬ মে, রবিবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝে কোনও এক জায়গায় আছড়ে পড়তে চলেছে। সঙ্গে ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, বাতাসের গতি সর্বোচ্চ (গাস্ট) ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার অবধি উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই এই নিয়ে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা প্রশাসনের তরফে। কোমর বাঁধছে বাংলাদেশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িত কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব রকম সতর্কতা গ্রহণে কোনও ত্রুটি রাখছে না কোনও পক্ষ।