ওঁরা 'চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক' নন, ওঁদের বন্দি করে রাখা যায় না! অভিবাসীদের ফিরতে না দেওয়ায় কর্নাটক সরকারকে আক্রমণ কংগ্রেসের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাসের শেষ থেকে দেশজুড়ে যে লকডাউন শুরু হয়েছে, তাতে বিপদে পড়েছেন রাজ্যের নানা প্রান্তের অভিবাসী শ্রমিকরা। নিরাপত্তার অভাবে, পেটের দায়ে, অসুখের আতঙ্কে যেনতেনপ্রকারে ফিরতে চেয়েছেন বাড়ি। কেউ মাইলের প
শেষ আপডেট: 6 May 2020 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাসের শেষ থেকে দেশজুড়ে যে লকডাউন শুরু হয়েছে, তাতে বিপদে পড়েছেন রাজ্যের নানা প্রান্তের অভিবাসী শ্রমিকরা। নিরাপত্তার অভাবে, পেটের দায়ে, অসুখের আতঙ্কে যেনতেনপ্রকারে ফিরতে চেয়েছেন বাড়ি। কেউ মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন, কেউ পথেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কেউ বা লুকিয়ে ফিরতে গিয়ে ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে। এমনই পরিস্থিতিতে লকডাউনের প্রায় দেড় মাস পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরাতে ১১৯টি বিশেষ ট্রেন চালাচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই শ্রমিক ট্রেনে নিজেদের রাজ্যের শ্রমিকদের অন্য রাজ্য থেকে কর্নাটকে ফেরানোর পরিকল্পনাও বাতিল করে দিল বিএস ইয়েদুরাপ্পা সরকার।
এদিন বিকেলেই জানা গেছিল, তাদের রাজ্য থেকে শ্রমিকদের ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কর্নাটক সরকার। যে ১০টি ট্রেনে করে আগামী পাঁচ দিনে শ্রমিকদের ফেরার কথা ছিল, সেই ট্রেনগুলিও বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের জানানো হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই কলকারখানা খুলবে। ফলে থেকে গেলে ফের কাজের সুযোগ পাবেন তাঁরা। সূত্রের খবর, গতকাল সন্ধেবেলা রাজ্যের নামকরা বিল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইয়েদুরাপ্পা। সেখানে বিল্ডাররা তাঁকে জানান, কাজের জন্য শ্রমিকের অভাব হচ্ছে। তার পরেই এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন বলে খবর।
স্বাভাবিক ভাবেই কর্নাটক সরকারের এই কথায় সমালোচনা শুরু হয়েছে সারা রাজ্যে। বিরোধীদের যুক্তি, যাঁরা বাইরে থেকে কাজ করতে এসেছেন তাঁরা কেউ রাজ্যের 'চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক' নন। তাই তাঁদের ফিরতে বাধা দেওয়া সরকারের অনুচিত।
গত সপ্তাহ থেকে এই শ্রমিকদের ঘরে ফেরার পালা শুরু হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই গুজরাতের মতো কিছু রাজ্য শ্রমিকদের থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। তাঁদের জানানো হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই কলকারখানা খুলবে। ফলে থেকে গেলে ফের কাজের সুযোগ পাবেন তাঁরা। কিন্তু কর্নাটক অনুরোধের পথে হাঁটেনি, বাতিল করে দিয়েছে ট্রেনই। এভাবে ট্রেন বাতিল করে অভিবাসী শ্রমিকদের ফেরাই বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটল।
বিরোধী দল কংগ্রেস জানিয়েছে, এটা অমানবিক। কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া টুইট করেছেন: সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে অভিবাসী শ্রমিকদের এই রাজ্যেই আটকে রাখতে বাধ্য করার এক কৌশল। তাঁদের কিছু হয়ে গেলে কি সেই দায় কর্নাটক সরকার নেবে?
https://twitter.com/siddaramaiah/status/1257981295734521856
কেন্দ্রীয় সরকার যদিও ঘোষণা করেছে যে, অভিবাসী শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফেরাতে তাঁদের টিকিটের ভাড়া বাবদ ৮৫ শতাংশ অর্থ ভারতীয় রেল বহন করছে এবং বাকি ১৫ শতাংশ বহন করছে সেই রাজ্য সরকার যাদের অনুরোধে ট্রেন চালানো হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও সহযোগিতা না করার অভিযোগ উঠেছে কর্নাটকের বিরুদ্ধে।
কর্নাটক সরকারের তরফে এর আগে প্রত্যেক নথিভুক্ত শ্রমিককে ২০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছিল। ফের ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এইজন্য বুধবার ১৬০০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন ইয়েদুরাপ্পা।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। সভাপগতি ডিকে শিবকুমার অভিযোগ করেছেন, “এভাবে শ্রমিকদের বন্দি করে রাখতে পারে না সরকার। আমাদের তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন উৎপাদন সংস্থার উচিত তাঁদের ভাতা দেওয়া।”