দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের সলিডারিটি ট্রায়ালের বাইরে অলটারনেটিভ থেরাপিতেও সংক্রমণ সারানোর আশা দেখা যাচ্ছে। বিশেষত আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথি থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফল বেশ সন্তোষজনক, এমনটাই দাবি করেছেন আয়ুষ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক বৈদ্য রাজেশ কোটেচা।
করোনার চিকিৎসায় যে সমস্ত ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে তার বাইরে গিয়েও আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথির ট্রিটমেন্টের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কোটেচা বলেছেন, দেশে এখন করোনা চিকিৎসায় যেসব ওষুধ এবং থেরাপির ট্রায়াল চলছে তাদের মধ্যে রয়েছে এইচআইভির ওষুধ লোপিনাভির-রিটোনাভির, অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাজিথ্রোমাইসিন, রেমডেসিভির, টোসিলিজুমাব এবং প্লাজমা থেরাপি। তাছাড়াও ম্যালেরিয়ার ওষুধ আয়ুষ-৬৪ এর ক্লিনিকাল ট্রায়াল হচ্ছে দেশের অনেক জায়গায়। তাছাড়া ভারতীয় আয়ুর্বেদের অশ্বগন্ধা, যষ্টিমধু, গুড়ুচি পিপলি বা গুলঞ্চের নানা কম্বিনেশনের ট্রায়াল হচ্ছে দেশের অন্তত ২০টি জায়গায়। হোমিওপ্যাথি ওষুধেরও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে।
কোটেচার কথায়, আয়ুর্বেদ এবং হোমিওপ্যাথির র্যান্ডোমাইজ়ড ক্লিনিকাল ট্রায়াল (RCT)চলছে । প্রাথমিক ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক। আরও বেশি সংখ্যক রোগীর উপর প্রয়োগ এবং পর্যবেক্ষণের পরেই সেই রিপোর্ট সামনে আনা হবে।

কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক আগেই বলেছিলেন, করোনা চিকিৎসায় আয়ুর্বেদিক ওষুধের কম্বিনেশন ট্রায়াল করা হবে। বিশেষত অশ্বগন্ধা, যষ্টিমধু, গুড়ুচি পিপলি বা গুলঞ্চ এবং আয়ুষ-৬৪ ওষুধের মিশ্রণকে প্রোফাইল্যাক্টিক ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। মৃদু সংক্রমণ থাকলে তার চিকিৎসাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে এই ওষুধ। আয়ুষ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক বৈদ্য রাজেশ কোটেচা বলেছেন, “কীভাবে এই চার ওষুধের ট্রায়াল চলছে সে বিষয়ে এখনই কোনও রিপোর্ট সামনে আনা হবে না। তবে করোনা প্রতিরোধে দেশের সনাতন আযুর্বেদ বড় ভূমিকা নিতে পারে। এইসব আয়ুর্বেদিক ওষুধে রয়েছে অ্যান্টি-অকসিডেন্ট, অ্যান্টি-হাইপার গ্লাইসেমিক, অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, অ্যান্টি-নিওপ্লাস্টিক, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে।”
করোনা ঠেকাতে আয়ুর্বেদের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথির থেরাপির কথাও বলেছেন কোটেচা। কেন্দ্রের আয়ুষ মন্ত্রক ও সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব হোমিওপ্যাথি (CCRH) যৌথ উদ্যোগে হোমিওপ্যাথি ওষুধ
আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ বা আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ সিএইচ (Arsenicum album 30CH)-এর ট্রায়াল চলছে দেশের নানা জায়গায়। আয়ুষ মন্ত্রক জানিয়েছে, আর্সেনিকাম অ্যালবাম হল আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড থেকে তৈরি একটি ওষুধ। অনিদ্রা, পেটের যে কোনও সমস্যা, খাদ্যনালীর সংক্রমণ, বদহজম, অ্যালার্জি এমনকি অধিক উত্তেজনা, অবসাদের চিকিৎসাতেও এই ওষুধ কাজে লাগে। বিশেষত করোনার কারণে শরীরে অধিক প্রদাহ কমাতে এই ওষুধের সুফল পাওয়া গেছে। সেন্টার কাউন্সিল অব হোমিওপ্যাথির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়েছে। দেশের নানা জায়গায় এই ওষুধের প্রয়োগ চলছে বলে জানা গিয়েছে।