মাহেশের ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরে বসানো হল পবিত্র নীল চক্র। শুক্রবার সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

শেষ আপডেট: 7 June 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই রথযাত্রা। তার আগে মাহেশের ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরে বসানো হল পবিত্র নীল চক্র। শুক্রবার সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ, ভক্তদের ঢল—সব মিলিয়ে নব নিলাচল মাহেশে যেন আগাম রথযাত্রার আবহ।
সকাল থেকেই মন্দিরে শুরু হয় বিশেষ পূজা, অর্চনা ও হোম যজ্ঞ। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুরোহিত ও পণ্ডিতদের উপস্থিতিতে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় মাঙ্গলিক ক্রিয়াকর্ম । দুপুরে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় প্রভু জগন্নাথের ভোগ।
এরপর বিকেল ৪টে ২৬ মিনিটে মাহেন্দ্রক্ষণ—ভক্তদের জয়ধ্বনি ও উল্লাসের মধ্যেই মন্দিরের চূড়ায় বসানো হয় নীল চক্র। অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি এই বিশালাকার চক্রটির ওজন ৮৩ কেজি, উচ্চতা ৮.৩ ফুট ও পরিধি ৫.৫ ফুট। পুরীধাম থেকেই আনা হয়েছে এই চক্র, যা সুদর্শন চক্র নামেও পরিচিত।
মাহেশ জগন্নাথ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, “এই পবিত্র চক্রটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রতীক নয়, এটি মন্দিরের নিরাপত্তা ও ভক্তদের মানসিক শান্তিরও প্রতীক। এই চক্রের দিকে তাকিয়ে মন থেকে প্রার্থনা করলে মানসিক প্রশান্তি মেলে। দূর থেকে এই চক্র দেখলেই মিলবে জগন্নাথদেব দর্শনের পুণ্য।”
তিনি আরও জানান, “পুরীর মতোই মাহেশেও এই নীল চক্র আশীর্বাদের রক্ষাকবচ হয়ে থাকবে। কথিত আছে, পুরীর মন্দির চূড়ার আশেপাশে কোনও পাখি বা বিমান ওড়ে না।” মাহেশে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মন্দিরের শিখরে স্থাপিত হল সুদর্শন চক্র। রথযাত্রার আগে জগন্নাথ মন্দিরে এই চক্র বসানোয় খুশি মাহেশের মানুষ।