
বিধানসভার প্রেস কর্নারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
শেষ আপডেট: 12 February 2025 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটায় বিকেল চারটে বাজতেই বাজেট পেশ করতে শুরু করেছিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ৪টা ৪৮ মিনিটে শেষ হল চন্দ্রিমার বাজেট পেশ।
তার ২ মিনিট আগেই স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই বাজেট শেষ হতেই কালক্ষেপ না করে প্রেস কর্নারে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এত তাড়াহুড়ো করে মুখ্যমন্ত্রীকে সচরাচর সাংবাদিক বৈঠকে যেতে দেখা যায় না। নেপথ্যে কোন কারণ? সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই তার ব্যাখ্যাও দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমরা গতবার এটা(প্রেস কর্ণার) বুক করেও প্রেসমিট করতে পারিনি। অন্য একজন বুক করে বসেছিল। তাই এবার আমরা আগে থেকে এটা বুক করেছিলাম। কারণ, আমার ঘরটা ছোট।" প্রেস কর্নারে সাংবাদিক বৈঠক করার জন্য স্পিকারকে ধন্যবাদও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
ততক্ষণে সকলের কাছেই স্পষ্ট, 'গতবারে অন্য একজন বুক করে বসেছিল' বলতে মুখ্যমন্ত্রী কাকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। কী হয়েছিল গতবারে? ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে তাকালে, গতবারে দুুপুরে বাজেট পেশ হয়েছিল। বাজেট শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন। প্রেস কর্নারের জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটে উঠছিল মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক। সেখানে বসেই মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি শুনছিলেন সাংবাদিকরা। এমন সময় আচমকা প্রেসকর্নারে ঢুকে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন বিরোধী দলনেতা।
ঘটনার আকস্মিকতায় সাংবাদিকরা তো বটেই ক্ষণিকের জন্য কিংকর্তব্যবিমূড় হতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকেও। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক চালিয়ে যেতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে বিরোধী দলনেতাও। একই সময়ে দু'জনের সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে সাংবাদিকরাও কিছুটা আতান্তরে পড়েন, যে কারটা কভার করবেন, আর কারটা নয়।
এবারে যাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাই আগে থেকেই স্পিকারের কাছ থেকে প্রেস কর্নারে সাংবাদিক বৈঠকের জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি আন্দাজ করে শুভেন্দুও এদিন বিধানসভা কক্ষ ছেড়ে বেরনোর পর আর প্রেস কর্নারের দিকে পা বাড়াননি। বাইরেই সাংবাদিক বৈঠক সারেন তিনি। ফলে গতবছরের সংঘাত এবারে এড়ানো গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ওই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে নাম না করে বিরোধী দলনেতাকে খোঁচা দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি মুখ্যমন্ত্রী।