
ফারাক্কা ব্যারেজ। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 27 August 2024 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল ছাড়া নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্য বিরোধ চলছে ত্রিপুরার ডমরু বাঁধ নিয়ে। চলমান বিবাদে যুক্ত হল ফরাক্কা ব্যারেজও। সোমবার ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ বাঁধের ১০৯টি গেট খুলে দেয়। তাতে ভারতে গঙ্গা এবং বাংলাদেশে পদ্মা এবং সংলগ্ন নদীগুলির জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। যদিও তা থেকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
আশ্চর্যের হল, তারপরও বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সোমবার দুপুর থেকে অপপ্রচারের বন্যা বইতে শুরু করেছে, যা এখনও চলছে। বন্যার পুরনো ভিডিও দিয়ে প্রচার করা হয়, ফরাক্কার জলে বাংলাদেশের হাজার হাজার গ্রাম জলের তলায় চলে গিয়েছে। কোনও কোনও মিডিয়া ভারতকে ‘পানি দস্যু’ বলেও আক্রমণ শানায়।
ত্রিপুরার ডমরু বাঁধ বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে সেখানে বাঁধ উপচে জল নদীতে আসে। সেই জলে ভেসে গিয়েছে ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ অংশ। বাংলাদেশে প্রচার করে দেওয়া হয়, ডমরুর জলেই ভেসেছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, সিলেট, ফেনি ইত্যাদি জেলা। পরে দেখা যায় সে দেশের স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বৃষ্টি নিয়ে সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারেনি। মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ভেসেছে ওই সব এলাকা।
ফরাক্কা নিয়ে ভারত অবশ্য কালক্ষেপ না করেই জানিয়ে দিয়েছে, ওই ব্যারেজের গেট খোলার বিষয়টি রুটিন। প্রতি বর্ষায় এই সময় গেট খুলে দিয়ে হয় উজানে অতিরিক্ত জল থাকায়। বাঁধ থেকে ছাড়া জল গঙ্গা ও পদ্মা অর্থাৎ ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশের দুই প্রধান নদীতেই প্রবাহিত হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘ফরাক্কার জল ছাড়া নিয়ে প্রচার মাধ্যমের বক্তব্য আমাদের নজরে এসেছে। এই সময় জল ছাড়া নতুন কিছু নয়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেছেন, জল ছাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে আগাম জানানো হয়। ই-মেল ছাড়াও দুই দেশের আধিকারিকদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে অবশ্য এখন ভারত বিরোধী প্রচার তুঙ্গে। ডমরু বাঁধ নিয়ে ঢাকায় কর্মরত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে ডেকে পাঠিয়ে কথা বলেছিলেন সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। বৈঠকের পর তাঁর প্রেস সচিব সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জল ছাড়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ভারতীয় দূতের কাছে কোনও ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। তিনি শুধু পরিস্থিতি বুঝতে তাঁকে ডেকেছিলেন।
ইউনুসের মুখপাত্রের এই বক্তব্য পছন্দ হয়নি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের। তাঁরা ইউনুসের উপর চাপ তৈরি করে। পরদিনই সরকারি বয়ান বদলে যায়। অন্যতম ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে ভারত জল ছেড়েছে। আর এক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জল ছাড়া বিষয়ে ভারতের কাছে জবাব চাওয়া হবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি বোঝাপড়া গড়ে তোলা হবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসবই আসলে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলে জনসাধারণকে ক্ষেপানোর প্রয়াস। কারণ, ডমরু বাঁধ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার এলাকার তিন জায়গায় নদীর জলস্তর মাপার ব্যবস্থা আছে। এরমধ্যে একটি কেন্দ্র ভারত ও বাংলাদেশের আধিকারিকেরা যৌথভাবে কাজ করেন। ফলে নদীর জল বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশ প্রশাসনের অজানা থাকার কথা নয়। অনেকেই মনে করছেন, বন্যা রুখতে ব্যর্থ বাংলাদেশ প্রশাসন ভারতের উপর দায় চাপিয়ে রক্ষা পেতে চাইছে।