প্রথমে বনকর্তারা একে বার্কিং ডিয়ার বলে মনে করলেও, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্ল্যাক প্যান্থার বা কালো চিতাবাঘের ( Black Panther) পর এ বার ডাওহিলের (Daohill) জঙ্গলে দেখা মিলল কালো হরিণের (Black Deer)। বুধবার কার্শিয়াংয়ের ডাওহিল ফরেস্টে এই বিরল প্রজাতির হরিণের দেখা ঘিরে বন দফতরের (Forest department) অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
প্রথমে বনকর্তারা একে বার্কিং ডিয়ার বলে মনে করলেও, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ হিমালয় সংলগ্ন নেপাল, ভুটান ও চীনের পার্বত্য এলাকায় আরও এক বিরল প্রজাতি, ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ারের দেখা মেলে। ডাওহিলে দেখা পাওয়া হরিণটি সেই প্রজাতির কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
#rel
কার্শিয়াং ডিভিশনের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান, “ওই কালো হরিণ বার্কিং ডিয়ারের প্রজাতির। সম্ভবত জিনগত কারণে দেহের রং কালো হয়েছে। এখানে এই প্রথম এমন হরিণের দেখা মিলল। এটা আমাদের জীববৈচিত্রের একটি নতুন সংযোজন। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”
দার্জিলিং জেলার বনাঞ্চলগুলির মধ্যে ডাওহিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। কার্শিয়াং শহরের মধ্যেই অবস্থিত এই জঙ্গলের উচ্চতা সমতল থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট। বুধবার দুপুরে অফিস থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের দিকে যেতেই ঝোপের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ওই হরিণের চোখে পড়ে ডিএফওর। সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ক্যামেরাবন্দি করেন দেবেশবাবু এবং নিজেই সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবেশগত বা জিনগত কারণে কোনও কোনও প্রাণীর শরীরে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। সেই কারণেই দেহের রং কালো হয়ে ওঠে। এ ধরনের প্রাণীদের ‘মেলানিস্টিক’ প্রজাতি বলা হয়। ডিএফওর আশঙ্কা, ডাওহিলে এমন আরও হরিণ থাকতে পারে। তাই জঙ্গলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পাইনের পাশাপাশি অর্কিড, রডোডেনড্রন-সহ নানা প্রজাতির গাছপালায় সমৃদ্ধ ডাওহিলের জঙ্গলে আগেও একাধিক বার ব্ল্যাক প্যান্থার বা মেলানিস্টিক চিতাবাঘের দেখা মিলেছে। এমনকি ব্ল্যাক ট্যারান্টুলার উপস্থিতিও নথিভুক্ত হয়েছে। এ বার কালো হরিণের হদিশ মেলায় বন দফতরের কর্তারা উচ্ছ্বসিত।
বনকর্তাদের একাংশের মতে, দার্জিলিং জেলার একদিকে নেপাল, অন্যদিকে ভুটান। ওই দুই দেশের পার্বত্য জঙ্গলে ব্ল্যাক মাস্ক ডিয়ারের বিচরণ রয়েছে। তাঁদের ধারণা, প্রতিবেশী দেশের জঙ্গল থেকেই হয়তো কোনও বিরল প্রজাতির হরিণ ডাওহিলে এসে পড়েছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে বন দফতর।