
শেষ আপডেট: 16 March 2023 14:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদানিদের (Adani) ‘কৃত্রিম’ শেয়ারে ধস, এলআইসি, এসবিআইয়ের লোকসান নিয়ে সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরব হয়েছে বিরোধীদলগুলি। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল এ নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি তথা জেপিসি তৈরি করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, জেপিসিতে তাদের আস্থা নেই। তৃণমূল চায়, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নজরদারিতে আদানি কাণ্ডের তদন্ত হোক।
এদিন দিল্লিতে তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সৌগত রায়। বাংলার শাসকদলের বক্তব্য, অতীতে বফর্স বা টু জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারির সময়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি হয়েছিল। কিন্তু সেখানে চেয়ারম্যান হন শাসদকদলের লোক, গরিষ্ঠ সদস্যও থাকেন শাসকদলের। ফলে যথাযথ তদন্ত হয় না।
বফর্স কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে। আর টু জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময়ে। যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। অনেকের মতে, যৌথ সংসদীয় কমিটি চাওয়ার বদলে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে আদানি কাণ্ডের তদন্ত চেয়ে তৃণমূল আসলে কংগ্রেসকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে, জেপিসি দিয়ে তোমাদের সময়েও কিছু বের করা যায়নি। এখনও যাবে না।
সেইসঙ্গে তৃণমূল এদিন আরও একটি রাজনৈতিক আহ্বান জানিয়েছে। ডেরেক, সৌগতরা বলেন, এসবিআই ও এলআইসি সংক্রান্ত বিষয় ইতিমধ্যেই জানাজানি হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল শাসিত যে সব রাজ্যে আদানিদের প্রকল্প রয়েছে সেখানেও তাদের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত হোক। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কেরল। যেখানে সরকার চালায় সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। আর অন্যদিকে আদানিদের বড় বিনিয়োগ রয়েছে রাজস্থানে। যেখানে কংগ্রেসের অশোক গেহলটের সরকার আছে। ঝাড়খণ্ডেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে আদানিদের। সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বাংলার হলদিয়াতেও আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাজ্য সরকার কি তা নিয়েও তদন্তে এগোবে?
সংসদ অধিবেশনে বিজেপির হট্টগোল নিয়েও এদিন সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, শাসকদল এমন লাফালাফি করে সংসদের দুই কক্ষ অচল করে রাখছে, এমনটা অতীতে দেখা যায়নি। তৃণমূলের বক্তব্য, সংসদকে গভীর অন্ধকার কূপে পরিণত করেছে বিজেপি।
রাহুল স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলেন, চিঠি দিলেন অধীর, কী বললেন ওম বিড়লা