ঘটনাস্থল মোহনপুর পঞ্চায়েতের ২১০ ও ২১১ নম্বর বুথ এলাকা। মঙ্গলবার সকালে শান্তিনগর বালিকা বিদ্যালয়ে শুনানি চলাকালীন এই গোলমালের সূত্রপাত বলে অভিযোগ।
.jpeg.webp)
ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 2 January 2026 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কমিশনের পইপই করে, কড়া ভাবে বলার পরেও আবার বিতর্ক। উত্তর ২৪ পরগনার মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত (SIR) শুনানি চলাকালীন সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)–কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূলকর্মীর (TMC) বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
ঘটনাস্থল মোহনপুর পঞ্চায়েতের ২১০ ও ২১১ নম্বর বুথ এলাকা। মঙ্গলবার সকালে শান্তিনগর বালিকা বিদ্যালয়ে শুনানি চলাকালীন এই গোলমালের সূত্রপাত বলে অভিযোগ। ওই শুনানি পরিচালনা করছিলেন এইআরও পিয়ালি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নথি যাচাইয়ের সময় তাঁকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয় এবং শুনানি বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এইআরও পিয়ালি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমি প্রত্যেককে বলছি, আমাকে ভীষণভাবে থ্রেট করা হচ্ছে। আমাকে বলা হচ্ছে যেন আমি হিয়ারিং না করি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে বাধ্য হয়ে শুনানি বন্ধ করে দিতে হয়।”
সূত্রের খবর, স্থানীয় তৃণমূলকর্মী (TMC Worker) শেখ আরিফ তাঁর ভাইয়ের বিষয়ে সময় চেয়েছিলেন। তাঁর ভাই রোমানিয়ায় থাকেন এবং শুনানিতে হাজির হতে দেরি হবে বলে জানান। অভিযোগ, সেই প্রসঙ্গেই এইআরও তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেন—এই অভিযোগ ঘিরেই বচসা শুরু হয়। তৃণমূলকর্মীর দাবি, এই মন্তব্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। তবে এইআরও-র অভিযোগ, কথাকাটাকাটির পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। মোহনপুর পঞ্চায়েত প্রধান হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টে তৃণমূলের তরফে বলা হচ্ছে, এইআরও নিজেই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন।
এই ঘটনায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বলেন, “আমরা রাজনৈতিক দল। কোথাও ভুল হলে তা তুলে ধরা আমাদের কাজ। কিন্তু কমিশনের কর্মীদের হুমকি দেওয়া আমাদের রাজনীতি নয়। কমিশনের কাজ সংশোধন করা, ভয় দেখানো নয়।”
উল্লেখ্য, ঠিক একদিন আগেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে কড়া বার্তা দিয়েছিল। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, বিএলও, ইআরও, এইআরও কিংবা পর্যবেক্ষকদের কোনও ভাবেই হুমকি দেওয়া চলবে না। জনপ্রতিনিধিদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কমিশনের কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
কমিশনের সেই কড়া নির্দেশের পরেই মোহনপুরের এই অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ঘটনার তদন্ত ঘিরে প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বাড়ছে বলে সূত্রের খবর।