৫৪৯ সাফাইকর্মীর পদের জন্য আবেদন ৭ হাজার ইঞ্জিনিয়ার, পিএইচডি স্কলারের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজটা ঝাড়ু দেওয়া। দিনে দু’বার। একবার সকালে, আর একবার বিকেলে। মাইনে মন্দ নয়। এই ঝাড়ুদার, রাস্তা পরিষ্কারের চাকরিতেই আবেদন করে ফেলেছেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর এমনকি পিএইচডি-র জন্য গবেষণা করছেন এমন প্রার্থীও। গত তিনদিনে চাকরির
শেষ আপডেট: 29 November 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজটা ঝাড়ু দেওয়া। দিনে দু’বার। একবার সকালে, আর একবার বিকেলে। মাইনে মন্দ নয়। এই ঝাড়ুদার, রাস্তা পরিষ্কারের চাকরিতেই আবেদন করে ফেলেছেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর এমনকি পিএইচডি-র জন্য গবেষণা করছেন এমন প্রার্থীও। গত তিনদিনে চাকরির জন্য দরখাস্ত জমা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার।
গ্রেড-১ সাফাইকর্মীর পদের জন্য বাছাই শুরু করে কোয়েম্বত্তূর কর্পোরেশন। যত আবেদনপত্র জমা পড়েছিল সেগুলি নাড়াঘাটা করতে গিয়েই চোখ কপালে ওঠে সরকারি আধিকারিকদের। এ কী কাণ্ড! যোগত্য সেখানে অষ্টম শ্রেণি পাশ, সেখানে আবেদন ঠুকে দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা হোল্ডার থেকে পিএইচডি স্কলাররা। এমনকি বেসরকারি সংস্থা, আইটি সেক্টরে ১০ বছর চাকরি করেছেন এমন প্রার্থীও আবেদন করেছেন সাফাইকর্মীর পদের জন্য।
কোয়েম্বত্তূর কর্পোরেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের ৭০ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। সরকারি চাকরির জন্যই হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এর আগেও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির জন্য দরখাস্ত করেছিলেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর প্রার্থীরা। সেই পরীক্ষারও যোগ্যতামান ছিল অষ্টম শ্রেণি। তখনও শোরগোল পড়েছিল। ডোমের চাকরির জন্যও আবেদন করতে দেখা গিয়েছিল উচ্চশিক্ষিতদের। দিন দিন এমন ঘটনা নজিরবিহীন হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন সরকারি আধিকারিকরা।
উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের সাফাইকর্মীদের কাজে আবেদন কি চাকরির অভাবের কারণেই? কোয়েম্বত্তূর পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, চাকরির ঘাটতি তো রয়েছেই। তবে নিরাপত্তা আর বেতনের জন্যও অনেকে সরকারি চাকরির দিকে ছুটছেন। যে যোগ্যতা বা কাজের ধরন যাই হোক না কেন। আবেদনকারীদের অনেককেই জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থায় চাকরির কোনও নিরাপত্তা নেই। ১২ ঘণ্টারও বেশি কাজের জন্য বেতন ৬০০০-৭০০০ টাকা। তারপর যখন তখন ছাঁটাই তো রয়েছেই।
সরকারি আধিকারিকদের বেশিরভাগেরই ধারণা, ওই প্রার্থীরা হয়তো বুঝতে পারেননি, ঠিক কী কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র সরকারি চাকরির নিশ্চয়তার কথা ভেবেই বোধহয় অনেকে আবেদন করেছেন। সাফাইকর্মীর এই কাজে দিনের বেলা তিন ঘণ্টা ও বিকেলে বা সন্ধেয় তিন ঘণ্টা কাজের জন্য বেতন মিলবে ২০ হাজার টাকা। খুলে যাবে রোজগারের অন্যান্য রাস্তাও। তাই ঝাড়ুদারের চাকরিতেও ঝাঁপাচ্ছেন উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/29-11-2019-news-india-an-indian-startup-is-offering-rs-1-lakh-to-sleep-at-work-for-100-days/