দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণে অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরেও নির্যাতিতা তরুণীকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি কেন, অপরাধীদের খুঁজে বার করার কাজেও নাকি গাফিলতি দেখা গেছে পুলিশের, উন্নাও কাণ্ডে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অজস্র। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে উন্নাও বিহার থানার স্টেশন হাউস অফিসার অজয় কুমার ত্রিপাঠি-সহ ছ’জন পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করল উত্তরপ্রদেশ সরকার।
রবিবার দুপুরে নিজের গ্রামেই সমাহিত করা হয় নির্যাতিতা তরুণীকে। তরুণীর পরিবারের দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতেই তরুণীর শেষকৃত্য সম্মন্ন হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী না এলে ফের ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। পরে লখনৌয়ের ডিভিশনাল কমিশনার মুকেশ মেশরম নির্যাতিতার পরিবারকে রাজি করিয়ে শেষকৃত্য সম্মন্ন করেন। অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র) অবনীশ অবস্তী জানিয়েছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাত পুলিশকর্মীকে বরখাস্ত করারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দোষীদের দ্রুত বিচার শুরু হবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে।
বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে যাওয়ার পথে উন্নাওয়ের ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। তাদের মধ্যে দু’জন ছিল ধর্ষণে অভিযুক্ত। শিবম ত্রিবেদী ও তার ভাই শুভম, যাদের বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ করেছিলেন নির্যাতিতা তরুণী। তরুণীর আদালতে যাওয়া ঠেকাতে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে দু’পা ভেঙে দিয়ে, গলায় ছুরি কোপ বসিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। শুক্রবার রাতে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে জীবনের লড়াই থেমে যায় তরুণীর।

উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে সারা দেশেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছিল। শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর খবরটা আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। বিক্ষোভ জমেছে সরকারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর মুখ না খুললেও শনিবার সকালে তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “এর থেকে নৃশংস ঘটনা আর হতে পারে না। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হবে।” যোগী এও বলেন, অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। উন্নাওয়ের মতো ঘটনা যাতে উত্তরপ্রদেশে আর না ঘটতে পারে সেজন্য পুলিশ ও প্রশাসন সবরকম চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই দিন বেলার দিকে যোগী সরকারের দুই মন্ত্রী স্বামীপ্রসাদ মৌর্য্য এবং কমলরানি বরুণ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ফের ক্ষোভ শুরু হয়।
উন্নাও নির্যাতিতার পরিবারকে ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া কথা ঘোষণা করেছে যোগী সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অন্তর্গত দুটি পাকা বাড়িও করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে আরও বলা হয়েছে, পরিবার তাঁদের কাছে জানিয়েছেন, তাঁদের এখনও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই ২৪ ঘণ্টা তাঁদের সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তরুণীর দাদাকে একটি লাইসেন্সযুক্ত বন্দুক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তরুণীর বোনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে মৃতার বাবা জানিয়েছেন, তিনি লোভী নন। বাড়ি তাঁর চাই না। শুধু চান তাঁর মেয়ের সঙ্গে যারা এমন করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়। নয়তো হায়দরাবাদের মত গুলি করে মারা হয়। সরকার এবং প্রশাসনের কাছে একই দাবি মৃতার দাদারও।