দ্য ওয়াল ব্যুরো : এবছরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হবে আগামী সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ৬ তারিখ অবধি। নিট পরীক্ষা হবে ১৩ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্ট ওই দু'টি পরীক্ষা পিছোতে অস্বীকার করেছে। সেই রায় খতিয়ে দেখার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে ছয়টি বিরোধীশাসিত রাজ্য। রাজ্যগুলি হল, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, ছত্তিসগড়, পাঞ্জাব এবং মহারাষ্ট্র। এদিন প্রতিটি রাজ্যেরই একজন করে মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১১ টি রাজ্যের ১১ জন ছাত্র জয়েন্ট ও নিট পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। গত ১৭ অগাস্ট তাঁদের আর্জি নাকচ করে সর্বোচ্চ আদালত বলে, ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ারের ক্ষতি হতে পারে এমন কাজ করা উচিত নয়।
বিচারপতিরা বলেন, "জীবন থেমে থাকতে পারে না। আমাদের সবরকম সতর্কতা নিয়ে এগোতে হবে। ছাত্ররা কি একবছর নষ্ট করতে তৈরি? শিক্ষাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।" পরে বিচারপতিরা বলেন, "কোভিড আরও একবছর স্থায়ী হতে পারে। আপনারা কি আরও একবছর অপেক্ষা করতে চান? আপনারা কি জানেন, তাতে দেশের কত বড় ক্ষতি হবে?"
গত বুধবার জয়েন্ট ও নিট পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনলাইনে বৈঠক করেন। আরও কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে যোগ দেন। ভার্চুয়াল বৈঠকের শুরুতেই মমতা বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করব, তারা যাতে সুপ্রিম কোর্টে পরীক্ষা স্থগিতের জন্য আবেদন করেন। তা না হলে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব। দরকার হলে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু আদালতে রায় পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে সলিসিটর জেনারেল, অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে তা করতেই পারে। কেন্দ্র যদি তা না করে, তাহলে আমরা আমাদের দিক থেকে আদালতে যাব। দেশে ২৪ লক্ষ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দেবে। এটা ছেলেমানুষির বিষয় নয়।”
ভিডিও কনফারেন্সে মমতা বলেন, “আমি সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি। এগিয়ে আসুন।” তিনি আরও বলেন, “ছাত্রছাত্রীরাও এই মহামারী পরিস্থিতিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত নয়। বাস্তব অবস্থাটা বোঝা জরুরি। কখনওই এত ছেলেমেয়েকে জেনেবুঝে বিপদের মুখে ফেলে দেওয়া যায় না।”
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেন, জয়েন্ট আর নিট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার দায় রাজ্যগুলির ওপরেই চাপবে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বৃহস্পতিবার বলেন, জয়েন্ট বা নিট একবছর বন্ধ থাকুক তিনি চান না। কিন্তু তিন-চারমাস পিছিয়ে দেওয়া যেতেই পারে।