দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালে ঢুকে পর পর রোগীদের ইঞ্জেকশন ফুটিয়ে যাচ্ছেন এক মহিলা। পরনে সাধারণ শাড়ি, নার্স বা হাসপাতাল কর্মী নয় বোঝাই যাচ্ছে। তাহলে কে উনি? সটান রোগীদের ঘরে ঢুকলেনই বা কি করে? এই সব ভাবনার মাঝেই নিরাপত্তাকর্মীদের ফাঁকি দিয়ে মহিলা ততক্ষণে উধাও। গত শনিবার সম্বলপুর জেলা হাসপাতালে এমনই এক কাণ্ডে আতঙ্ক তৈরি হয় রোগীদের মধ্য়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল কর্মীদের বয়ান অনুযায়ী এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই মহিলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মহিলার নাম লিলি জালা। সম্বলপুর টাউনেরই এএন গুহ লেনের বাসিন্দা। লিলি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁরও চিকিৎসা চলছে।
লিলির পরিবার জানিয়েছে, প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। গোটা এলাকা ঘুরে আবার রাতে ফিরে আসেন। ঘটনার দিনও তেমন ভাবেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আটকাতে গেলে পরিবারের লোকের সঙ্গে ঝগড়াও করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, একটি ওয়ার্ডের পর পর পাঁচ জন রোগীকে ইঞ্জেকশন দিয়েছেন লিলি।
ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন রোগীদের পরিবারের লোকজন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যে সময় লিলি হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ঢোকে, সেখানে কোনও নার্স বা কর্তব্য়রত চিকিৎসক ছিলেন না। গাফিলতির অভিযোগে রজনী সাহু নামে এক নার্সকে বরখাস্ত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সম্বলপুর সিডিএমও কেকে গুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘‘যে রোগীদের ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন লিলি তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশিল। কী ভাবে এই কাণ্ড ঘটে গেল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন নার্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও লোকজনের গাফিলতি রয়েছে কি না সেটা জেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’