দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও দেহ রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়। কোনওটা আবার মেঝের উপর। কারও বয়স ৭০। কারও ৪০। রয়েছে দু'টি শিশুও। ঘরের ভিতর থেকে একই সঙ্গে পরিবারের পাঁচ জনের দেহ উদ্ধারের সময় চমকে ওঠেন তদন্তকারীরা। মুহূর্তে ভেসে ওঠে দিল্লির বুরারি মৃত্যু-রহস্যের ছবিটা।
এ বারের ঘটনাস্থল কোয়েম্বত্তূর। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, বিপুল আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল গোটা পরিবার। সে জন্য সবাইকে খুন করে আত্মহত্যা করেছেন পরিবারের কর্তা। পরিারের সদস্যদের নাম এখনও সামনে আসেনি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সকাল থেকে বাড়ির কোনও সদস্যকে তেমন ভাবে বাইরে বার হতে দেখা যায়নি। দুপুরের পর থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল বাড়ির দরজা, জানলা। কৌতুহলী হয়ে এক ব্যক্তি বাড়ির জানলায় চোখ রাখতেই চমকে ওঠেন। বন্ধ কাঁচের জানলার ওপারে তখন সিলিং থেকে ঝুলছে বাড়ির কর্তার দেহ। সঙ্গে সঙ্গে তিনি খবর দেন এলাকার মানুষজনকে। খবর যায় পুলিশের কাছেও। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে পরিবারের বাকিদের দেহ।
তদন্তকারী এক অফিসারের কথায়, সিলিং থেকে ফাঁস লাগিয়ে ঝুুলছিল বাড়ির কর্তার দেহ। মেঝেতে পড়েছিল তাঁর মা ও স্ত্রীয়ের দেহ। তার পাশেই ছিল দু'টি শিশুর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরিবারের বাকিদের বিষ খাইয়ে নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন ওই ব্যক্তি।
নয়াদিল্লির বুরারি এলাকার একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধারের পর তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ‘শেয়ারড সাইকোটিক ডিসঅর্ডার’।রোগেই নাকি আক্রান্ত হয়েছিলেন বুরারির ভাটিয়া পরিবার। তার জন্যই পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে সংক্রামিত হয়েছিল অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস। এই রোগই তাঁদের গণ আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছিল। তবে বুরারি কাণ্ডের পরেও গণ আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় একই সঙ্গে পরিারের ছ'জনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তার মধ্যে ছিল দু'টি শিশুও। পরবর্তীতে রাঁচির কাঙ্কে থানা এলাকায় একই বাড়ি থেকে সাত জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।