দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্ত। তথ্য (ডেটা) বাড়ছে দিন দিন। দ্রুত গতিতে তাকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ব্রডব্যান্ড, ৪জি প্রযুক্তি। ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি এর অপব্যবহারও উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তার উপর গলদ যদি ধরা পড়ে মাইক্রোসফটে তাহলে তো মাথায় হাত পড়ার মতো ব্যাপার। মাইক্রোসফট অফিস ৩৬০ এবং সংস্থার ব্যক্তিগত ইমেলে (Outlook.com)রয়েছে লক্ষ লক্ষ বাগ (Vulnerabilities) যা যে কোনও মুহূর্তে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত তথ্যের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। মাইক্রোসফটের সিকিউরিটি সিস্টেমে এমনই সব গলদ ধরে দিলেন কেরলের এক যুবক। প্রায় ৪০০ মাইক্রোসফটের ইমেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি।
সাহাদ এনকে। কেরলের বাসিন্দা। Safetydetective.com সংস্থার কর্মী। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সাহাদের পড়াশোনা দীর্ঘদিনের। সংস্থার সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। সাহাদ জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের অনেক প্রোগ্রামিং সিস্টেমেরই সিকিউরিটি চ্যানেলে রয়েছে গলদ। ফলে সফটওয্যার ডাউনলোড করে তার থেকে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি মাইক্রোসফট আউটলুক, মাইক্রোসফট স্টোর বা মাইক্রোসফট সোয়ে-তে অ্যাকাইন্ট রয়েছে যাদের তারাও নিরাপদ নন। মাত্র একটা ভুল ক্লিকেই যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারদের কাছে।
সফটওয়্যার বাগ বা Vulnerabilities হল কম্পিউটারের প্রোগ্রাম-সংক্রান্ত ত্রুটি। প্রোগামের সোর্স কোড বা তার ডিজাইন, উপাদান এবং এই ধরনের প্রোগ্রাম দ্বারা ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে তৈরি Error বা ত্রুটি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ত্রুটি থেকে বাগ তৈরি হয়। সাহাদ জানিয়েছে, প্রায় ৪০ কোটি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে এই ধরনের ত্রুটির খোঁজ পাওয়া গেছে যার ফল মারাত্মক হতে পারত। তাঁর কথায়, ‘‘জুন মাসে প্রথম আমি এই ত্রুটিগুলি ধরি। তারপর সরাসরি মাইক্রোসফটের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিশদে ব্যাপারটা জানাই। যৌথভাবে কাজ করে এই ত্রুটিগুলি শোধরাতে পেরেছি আমরা।’’ আপাতত ‘ডিবাগিং’ (বাগ দূর করার পদ্ধতি)সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাহাদ।
কী ভাবে এই ত্রুটি ধরলেন সাহাদ? সাইবার বিশেষজ্ঞের কথায়, মাইক্রোসফটের সাবডোমেন "success.office.com" –এর মধ্যে প্রথম গলদ দেখেন তিনি। জানিয়েছেন, ত্রুটির কারণে এই ডোমেন ঠিকঠাক কাজ করছিল না, তখনই সন্দেহ হয় তাঁর। খুঁজে পেতে মাইক্রোসফট স্টোর, অফিস ও সোয়ে-র মধ্যে বাগ খুঁজে পান সাহাদ। ‘‘কর্পোরেট সংস্থা থেকে বিজনেজ অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ফাইল, কোম্পানি তথ্য, ইমেল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল ক্রুটিযুক্ত। নিরাপত্তার ফাঁক গলে সেই সব তথ্য সহজেই হাতিয়ে নিতে পারত হ্যাকারের দল,’’ মাইক্রোসফটের ত্রুটি সারিয়ে বিজয়ীর কণ্ঠে বলেছেন সাহাদ।