দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় মাপের রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু সেখানে এই প্রথম নয়। নতুন নয়, মৃত্যু ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তোলপাড় হওয়ার ঘটনাও। বিশৃঙ্খলা সেখানে বারবারই ঘটেছে এই ধরনের পরিস্থিতিতে। যার অন্যথা হল না করুণানিধির মৃত্যুতেও। তবে মাত্রা আগের তুলনায় অনেক কম।
মঙ্গলবার সন্ধেয় মারা যান তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি। ৯৪ বছরের এই বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুর পরেই রাজ্য জুড়ে ঘনিয়েছে অশান্তির ঝড়। ছড়িয়েছে হিংসা। এই হিংসার ও অশান্তির দাপটে পদপিষ্ট হয়েছেন বহু মানুষ। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা দুই।
এই অশান্তির আবহ তামিলবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামাচন্দ্রনের মৃত্যুর কথা। ১৯৮৭ সালের এই ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। সেবারে ২৯ জনের মৃত্যু দেখেছিল তামিলনাড়ু। বিশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছিলেন ৪৭ জন পুলিশকর্মী। আত্মহত্যা করেছিলেন রামাচন্দ্রনের ৩০ জন অনুগামী।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জয়ললিতার মৃত্যুর পরে অবশ্য রাজ্যবাসীর মধ্যে অনেকটা সংযম দেখা গিয়েছে। অশান্তির আঁচ ঘনালেও, কারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে আম্মার মৃত্যুর 'আঘাত' সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যা ও মৃত্যু হয় ৪৭০ জনের।
করুণানিধি সদ্য মারা গিয়েছেন। এখনও কোনও আত্মহত্যার খবর না এলেও, তাঁর শেষকৃত্যের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে চলে গিয়েছে দু'টি প্রাণ। যদিও পুলিশ বলছে, সেটা ১৯৮৭-র ওই পাগলামোর তুলনায় কিছুই নয়।
সব মিলিয়ে দক্ষিণের রাজনীতিকরা বলছেন, তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষ পরিণত হচ্ছেন। তাঁদের মানসিকতা বদলাচ্ছে। বড় মাপের মৃত্যুগুলো আরও ভাল ভাবে সামলাতে পারছেন তাঁরা।