
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 November 2024 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতের সকালে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে রৌদ্রোজ্জ্বল সকালের অপেক্ষায় থাকেন অনেকেই। বর্ষাকালেও তাই। আকাশে মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্য লুকোচুরি করে। কিন্তু এই সূর্য হঠাৎ হারিয়ে গেলে কী হবে? দু'দিন যদি দেখা না মেলে কী প্রভাব পড়বে? পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে দু'মাসের জন্য সূর্য ছুটিতে থাকে।
আমেরিকার আলাস্কায় একটা ছোট্ট শহর আছে, যার নাম উটকিয়াগভিক। আজ থেকে প্রায় ২ মাস পর এই শহরে সূর্য উঠবে। উটকিয়াভিকে শেষবার সূর্যোদয় হয়েছিল ১৮ নভেম্বর। এখন এই শহরে সূর্য উঠবে ঠিক ৬৪ দিন পরে অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি। এই শহর ৬৪ দিন অন্ধকারে থাকবে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।
প্রায় ৫ হাজার মানুষ উটকিয়াগভিক শহরে বাস করে। এটি ব্যারো নামেও পরিচিত, যা আর্কটিক সাগরের কাছে আলাস্কার উত্তর দিকে অবস্থিত। এটি এতটাই উত্তরের দিকে অবস্থিত, যে শহরটি প্রতি বছর সূর্যোদয় ছাড়া বেশ কিছু দিন কাটায়। ১৮ নভেম্বর, সূর্য অস্ত গিয়েছিল স্থানীয় সময় ১:২৭ মিনিটে। ৬৪ দিন পরে ২২ জানুয়ারি আবার সূর্যোদয় হবে প্রায় ১:১৫ মিনিটে, তাও মাত্র ৪৮ মিনিটের জন্য। তারপর ধীরে ধীরে দিন বড় হতে থাকবে।
কিন্তু এমনটা কীভাবে সম্ভব?
আসলে পৃথিবী তার অক্ষে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে আছে, যার ফলে সূর্যের আলো এটির একটি অংশে পৌঁছতে পারে না। এই কারণে, পৃথিবীর একদম উত্তর এবং দক্ষিণ অংশে অবস্থিত অঞ্চলগুলিতে প্রতি বছর পোলার নাইট হয়, অর্থাৎ, এই অঞ্চলগুলিতে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে বেশ কয়েক দিন সূর্যোদয় হয় না। পোলার নাইটের সময় হল ২৪ ঘন্টা থেকে প্রায় ২ মাস।
সূর্যোদয় ছাড়া সেখানের মানুষ বাঁচে কীভাবে?
সূর্যোদয় না হলেও, শহরটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকে না। তবে দীর্ঘদিন সূর্য না ওঠায় সেখানে বসবাসকারী মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও, এলাকাটিতে চরম ঠান্ডা থাকে। বিশেষ বিষয় হল, এই শহরটিতে যেমন প্রায় ২ মাস সূর্যোদয় হয় না। তেমনই এখনকার মানুষ সূর্যাস্ত ছাড়া ৩ মাস বেঁচে থাকে। ১১ মে ২০২৫ থেকে ১৯ অগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ব্যারো অর্থাৎ উটকিয়াগভিকে সূর্য অস্ত যাবে না।