দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি দেশের হয়ে পদক জিতেই বলেছেন, সাধারণদের মতোই আমাদের গতিবিধি। আমি কখনও মনে করিনি আমি দুর্বল, আমি অন্যদের মতো হাঁটতে পারি না। কারণ আমার পরিবার আমাকে শিখিয়েছে, হুইলচেয়ারেই কিভাবে বিশ্ব জয় করতে হয়।
টেবল টেনিসে প্যারালিম্পিকে রুপো পাওয়ার পরে গুজরাটের মেয়ে ভাবিনাবেন প্যাটেল ছবি তুলেছেন দীপা মালিকের সঙ্গে। দীপাও একসময় দেশকে গর্বিত করেছিলেন পদক জিতে। তিনিও হুইলচেয়ারে বসেই শটপাটে পদক এনে দিয়েছিলেন দেশকে।
সব থেকে বড় কথা, প্যারালিম্পিয়ানদের কথা সারাবছর শোনাও যায় না, তাঁরা বিশ্ব মঞ্চে সফল হলেই তাঁদের নামে জয়জয়কার পড়ে যায়। না হলে যে টেবল টেনিস তারকা সবমিলিয়ে মোট ৩০টি পদক পেয়েছেন, তাঁর নাম অজানাই ছিল দেশবাসীর কাছে।
ভাবিনা সেই কারণেই রহস্যের আরও এক নাম। তিনি নিভৃতে থেকে নিজেকে তৈরি করেছেন। গুজরাটের ভাডনগরে মেহসানা জেলার সুন্ধিয়া গ্রামে ১৯৮৬-র ৬ নভেম্বর জন্ম ভাবিনার। মাত্র এক বছর বয়সেই পোলিওতে আক্রান্ত হন তিনি। শরীরের নিচের অংশ ক্রমশ অবশ হয়ে যেতে থাকে। পরিবারের লোকেরা বহু চেষ্টা করেছিল, তাঁকে ভাইজাগে নিয়ে যাওয়া হয়, কাজ হয়নি কিছুই।
ছোটবেলা থেকে যে হুইলচেয়ার তাঁর সঙ্গী, সেটাই রয়ে গিয়েছে। বাকি জীবনেই থাকবে। ভাবিনা বলেছেন, হুইলচেয়ারই আমার জগৎ, সেখানে বসেই আমি খেলি, স্বপ্ন দেখি। ২০০৪ সালে তাঁর বাবা আমেদাবাদের ব্লাইন্ড পিপল্স অ্যাসোসিয়েশনে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানে কম্পিউটার পড়ার পাশাপাশি স্নাতক হওয়া লক্ষ্য ছিল ভাবিনার। পড়াশুনোর পাঠ শেষ করেছেন ৩৪ বছরের এই তারকা।
এই অ্যাকাডেমিতে পরিচয় লাল যোশী নামে একজনের সঙ্গে। তাঁর পরামর্শেই ভাবিনা ভর্তি হন টেবল টেনিস কোচিং সেন্টারে। নেহাতই শরীর ভাল রাখার জন্যই ভর্তি হতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনবছরের মধ্যে দারুণ উন্নতি করায় তিনি জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে নাম দিতে থাকেন, সফলও হন। ২০০৭ সালে জাতীয় ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন, ২০০৯ তে আন্তর্জাতিক ওপেনে নেমেই সফল। ২০১১ সালে তিনি তাইল্যান্ডে খেতাব পান, এমনকি দুই বছর আগে ব্যাঙ্ককে এশীয় টেবল টেনিসে সোনা পেয়েছিলেন।
কী করে এত শক্তি পান? প্রশ্নের জবাবে ভাবিনা বলেছেন, ‘‘আমি শচীন তেন্ডুলকারের ব্যাটিং দেখলে মনের জোর পাই। তিনিই আমার প্রেরণা, শচীন স্যারের দেখা করার ইচ্ছে রয়েছে।’’ ভাবিনার এই সাফল্যে তাঁকে গুজরাট সরকার তিন কোটি টাকা পুরস্কার অর্থের কথা ঘোষণা করেছে।