দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুইডেনের মুখের গ্রাস কেড়ে নিল ইউক্রেন। অঘটনের ইউরো কাপে তাদের জয়টিও অপ্রত্যাশিতই। সবাই ভেবে নিয়েছিল নির্ধারিত সময়ে দুই দলের স্কোর যখন ১-১, নিশ্চিতভাবে গড়াবে টাইব্রেকারে। কারণ আক্রমণ-পালটা আক্রমণে খেলা চললেও গোলের দিশা কোনও দল পাচ্ছিল না সেইসময়।
অবশেষে ত্রিশ মিনিট শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের গোলে ইতিহাস গড়েছে ইউক্রেন। ম্যাচের ১২০ মিনিটের খেলা শেষে ১২১ মিনিটে গিয়ে গোল করে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন ইউক্রেনের বদলি ফরোয়ার্ড আর্তেম ডভবিক। তাঁর গোলেই কোয়ার্টারের টিকিট পেয়েছে ইউক্রেন।
ম্যাচটিতে ২-১ গোলে জিতেছে তারা। প্রথমার্ধেই হয়েছিল ম্যাচের প্রথম দুই গোল। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও ১-১ থাকলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে গিয়েও দেখা মিলছিল না গোলের। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ফল নির্ধারণী গোলটি এনে দেন ডভবিক। ডান পাশ থেকে নিখুঁত ক্রস দিয়েছিলেন ওলেকসান্দ্র জিনচেঙ্কো। সুইডেনের অফসাইড ট্র্যাপ পেরিয়ে অসাধারণ হেডে তা জালে জড়ান ডভবিক।
একদম শেষ সময়ে করা গোলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে পুরো ইউক্রেন শিবির। গোল উদযাপন করতে গিয়ে নিজের জার্সি খুলে ফেলার কারণে হলুদ কার্ড দেখেন ডভবিক।
ম্যাচের প্রথম গোলটি করেছিলেন ইউক্রেনের জিনচেঙ্কো নিজেই। ম্যাচের ২৭ মিনিটের সময় ডান পাশ থেকে বাঁকানো ক্রসে ফাঁকায় থাকা জিনচেঙ্কোকে খুঁজে নেন ইয়ারমোলেঙ্কো। দুর্দান্ত জোরালো ভলিতে সুইডিশ গোলরক্ষক ওলসেনকে পরাস্ত করেন জিনচেঙ্কো। পরে তাঁর হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
জিনচেঙ্কোর করা প্রথম গোলের লিড অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ইউক্রেন। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার মিনিট দুয়েক আগে আলেকজান্ডার আইজ্যাকের পাসে সমতা ফেরান এমিল ফর্সবার্গ। চলতি ইউরোতে এটি তাঁর চতুর্থ গোল।
তার মধ্যেই অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের নয় মিনিটে আর্তেম বেসেডিনকে কড়া ট্যাকল করায় লাল কার্ড দেখেন সুইডেনের মার্কাস ড্যানিয়েলসন। শেষ ২১ মিনিট দশ জনে খেলতে হয়েছে সুইডেনকে, সেটাই পার্থক্য হয়ে গিয়েছে শেষমেশ।