দ্য ওয়াল ব্যুরো: কতদিন মা-কে দেখিনি, অলিম্পিকে রুপো জয়ের পরে বলেছিলেন মীরাবাই চানু। একটা ইতিহাস তৈরির জন্য কত আত্মত্যাগ করতে হয়, কত ঘাম পায়ে ফেলতে হয়, তবেই তো নয়া দিগন্তের আভাস মেলে।
মনিপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা মীরার সব ঘটনাই রূপকথার মতো। কাঠ কুড়ানি থেকে অলিম্পিকের পদক, কী না তাঁর জীবন বৃত্তান্তে রয়েছে। তবুও তিনি অপরাজিতা, হার মানতে শেখেননি, তাই তো তিনি আজ ভারতের রানী।
গতকাল দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নেন ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। একের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অবশেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ঘরে ফিরলেন চানু। অলিম্পিকে স্বপ্ন সফল করে ইম্ফলে পা রাখলেন ২৬ বছরের এই অলিম্পিক পদকজয়ী ভারোত্তোলক।
https://twitter.com/mirabai_chanu/status/1420037355352719366
মণিপুরের বিমানবন্দরে চানুকে বরণ করে নেন মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিং। বিমানবন্দরে মেয়েকে নিতে আসেন চানুর পরিবার। মা-কে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন চানু। জড়িয়ে ধরে ভেঙে পড়েন কান্নায়। অঝোরধারায় কাঁদছিলেন, মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছিয়ে দেন মেয়ের। কতদিন পরে মা-মেয়ের মিলন হল।
এই কান্না স্বপ্ন সফল হওয়ার। মা সাইখোম তোম্বি দেবীর স্বপ্নও সফল হয়েছে। তিনিও গর্বিত। চানুর বাবা কৃতি মিতেইও মেয়েকে দেখে কান্নায় ভাসান। এক আবেগঘন মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি হয়ে থাকল। ৪৯ কেজি বিভাগে রুপো জেতেন মীরাবাঈ চানু। স্ন্যাচ এবং ক্লিন ও জার্কে মোট ২০২ কেজি ভার তোলেন তিনি।
দেশে ফিরেই এক সাক্ষাৎকারে চানু বলেছিলেন, ‘‘মাকে দেখার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। মঙ্গলবার মণিপুর যাব, মায়ের সঙ্গে সময় কাটাব।” চানুর কানে অলিম্পিক্সের পদকের মতো দেখতে যে সোনার দুল রয়েছে, তা তৈরি করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর মা। মেয়ের সৌভাগ্যের আশায় রিও অলিম্পিক্সের আগে গয়না বিক্রি করে এই দুল গড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ইম্ফল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এক গ্রামে থাকেন চানু। গ্রামের বহু সাধারণ মানুষ এদিন জড়ো হয়েছিলেন তাঁদের বাড়ির সামনে। সকলের জন্য মিস্টি মুখের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই মনিপুর সরকারের থেকে বলা হয়েছে, চানুর জন্য পুলিশের বড় পদের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।