দ্য ওয়াল ব্যুরো : সবসময় বড় মঞ্চে বড় তারকারা জ্বলে ওঠেন। এমনটাই ঘটে বিশ্ব ফুটবলে। কিন্তু এবারই কেমন যেন হল লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে।
এল ক্ল্যাসিকো-তে মেসি যেন ধরা দিলেন একেবারে অচেনা মেজাজে। যে বিধ্বংসী মেজাজে দেখে তাঁকে অভ্যস্ত এই ধরনের খেলায়। তার একেবারে বিপরীত সহাবস্থান ঘটেছে বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্রের খেলায়।
সারা ম্যাচে মেসি কতবার বল ধরেছেন, সেটিও একটি রহস্য। কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁর সেই সোলো টার্ন দেখা গেলেও কাজে আসেনি কিছুই। মেসি যেমন অনুজ্জ্বল ছিলেন, তেমনি রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনাও ছিল কেমন ম্যাড়মেড়ে। রিয়ালের কাছে ৩-১ গোলে হার যেন সেটাই প্রমাণ করেছে।
খেলার শুরুতে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত দুটি আক্রমণ। এই দুই আক্রমণেই পরাস্ত হলেন রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার দুই গোলরক্ষক। দু’দলই হজম করেছে দুটি গোল। বিরতিতে খেলার ফল ছিল ওই ১-১। দ্বিতীয়ার্ধে হয়েছে আরও দুটি গোল। এই দুটিই করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
সব থেকে তাৎপর্য্যের বিষয় হচ্ছে, খেলাটি ছিল বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে। হয়তো সারা মাঠ ফাঁকা ছিল করোনা আবহের মধ্যে। কিন্তু তবুও তো চেনা পরিবেশ, চেনা সবকিছুই, তারপরেও বার্সার এই করুণ হারে নানা সমালোচনা ধেয়ে আসছে। বলা হচ্ছে, দলের কোচ রোনাল্ড কোম্যান ভাল করে দলই সাজাতে পারেননি। তাঁর ছকে কোনও বৈচিত্র্য ছিল না। যদিও গোল হজম করার পর খুব দ্রুতই ট্র্যাকে ফিরে এসেছে তারা। মূলতঃ তরুণ ফুটবলার আনসু ফাতির ক্ষিপ্র গতির কারণেই সমতায় ফিরতে পেরেছে বার্সা।
ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় করিম বেঞ্জেমার পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ এক প্লেসিং শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের ফেডেরিকো ভালভার্দে। এরপর তিন মিনিট পরই, ৮ মিনিটের মাথায় মাঝ মাঠ থেকে লেফট উইংয়ে বল ভেসে আসলে নাচোকে পেছনে ফেলে নিয়ন্ত্রণ নেন জোর্ড আলবা। বলটাকে টেনে নিয়ে বক্সের মাঝ বরাবর ক্রস করেন তিনি। দ্রুত এগিয়ে আসা আনসু ফাতি পা ঠেকিয়ে সেটিকে জড়িয়ে দেন রিয়ালের জালে।
রিয়ালের হয়ে বাকি দুটি গোল করেন সার্জিও রামোস ও মদরিচ। বিরতির পরে খেলা ধরার চেষ্টা করেছিল বার্সা, কিন্তু পালটা আক্রমণের ছকে বাজিমাত করে রিয়ালই।
বার্সাকে হারিয়ে ৬ ম্যাচ থেকে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রিয়াল। সমান ম্যাচে ১১ পয়েণ্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল সোসিয়াদাদ, ৫ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা রয়েছে ১০ নম্বরে।
এদিকে, মরসুমের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পরে অবশেষে জয়ে ফিরল প্যারিস স্যঁ জ্যঁ। পয়েন্ট টেবিলের নিচে থাকা দল ডিজনকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। জোড়া গোলের মাধ্যমে নিজেদের ঘরের মাঠে দলকে সহজ এনে দিয়েছেন ময়সে কিন ও কিলিয়ান এমবাপে। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা।
ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই প্রথম গোল করেন কিন। সতীর্থ মিচেল বাকারের ক্রস খুব কাছ থেকে ভলি করে জাল কাঁপান এ ইতালীয় ফরোয়ার্ড। এর মিনিট পাঁচেক পর পোস্টে লেগে ফিরে আসে নেমারের হেড। তবে পরের গোলটিতে বড় অবদান রাখেন নেমার। এ গোলটিও করেন কিন। ৮২ মিনিটের সময় নিজের প্রথম ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। টানা ছয়টি ম্যাচ জয়ের পর ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে পিএসজি।