দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যু রহস্য শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ! প্রতিদিন কিছু না কিছু রহস্য ফাঁস হচ্ছে। তিনি কীভাবে মৃত্যুবরণ করলেন, কেন তিনি চলে গেলেন অকালে, এই নিয়ে গভীর রহস্য দানা বাঁধছে।
সেদিনও বলা হয়েছিল, মারাদোনা একবার পড়ে যাওয়ার পরে তাঁর মাথায় স্ক্র্যান করা হয়নি। অনাদরে ছিলেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে, দেখার কেউ ছিল না। থাকলেও তাঁরা নিজের লোক নন, ব্যক্তিগত চিকিৎসক, কিংবা আইনজীবিরা।
আর দু’দিন বাদেই ফুটবল ঈশ্বর-এর মৃত্যুর একমাস পূর্ণ হবে। গত ২৫ নভেম্বর তাঁর জীবনাবসান হয় বুয়েনস আয়ার্সে নিজ বাসভবনে। তাঁর চলে যাওয়ার এক মাস পরে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর অটোপসি রিপোর্ট। এই রিপোর্টেই জানা গিয়েছে, মারাদোনার শরীরে কোনও মাদক বা ড্রাগের নমুনা মেলেনি।
যে মাসে মারা গিয়েছেন, সেই নভেম্বরের শুরুতেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে জমাট বাধা রক্ত বের করা হয়েছিল দিয়েগোর। ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রাথমিকভাবে অটোপসি রিপোর্টে দেখা যায়, দিয়েগো ঘুমের মধ্যে চলে গেলেও মূলতঃ অ্যাকিউট পুলমোনারি অ্যাডেমায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, মানে ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছিল। ফুসফুসে তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়, এটা হয় তাঁর হৃদযন্ত্রের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুণ।
মারাদোনার টক্সিকোলোজি রিপোর্টের দেখা গিয়েছে, তাঁর শরীরে কোনও অ্যালকোহল কিংবা অবৈধ কোনও ধরনের ড্রাগের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একটা ওষুধের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে, সাইকোট্রফিক ড্রাগ। যেটা বিষন্নতা এবং হতাশা থেকে মুক্তির জন্য দেওয়া হয়েছিল কিংবদন্তিকে।
টক্সিকোলজি রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, তাঁর হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসই শুধু নয়, মারাদোনার কিডনি এবং লিভারও পুরোপুরি অকেজো হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর পর তাঁর হার্টের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছিল, রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সেটি সুস্থ মানুষের হার্টের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর চিকিৎসক সম্প্রতি বলেছেন, দিয়েগো শরীরের প্রতি এতটাই অযত্ন দেখিয়েছেন, এই মৃত্যু তাই আত্মহত্যারই শামিল।