অশোক মালহোত্রা
প্রথম ইনিংসে লোকেশ রাহুলের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডি একটা লড়াই হতে চলেছে। দুবাইয়ের মাঠে রান রয়েছে। তাই বিরাট, ডিভিলিয়ার্সদের ব্যাটে একটা লড়াই আশা করেছিলাম। কিন্তু পাঞ্জাবের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারল না কেউ। বিরাটের মনে হয় এখনও মাথায় ঘুরছে রাহুলের দুটো ক্যাচ ছাড়া। একমাত্র ডিভিলিয়ার্স ও ওয়াশিংটন সুন্দর ছাড়া কেউ প্রতিরোধই গড়তে পারল না। ফলে যা হওয়ার তাই হল। ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে ব্যাঙ্গালোরকে হারাল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।
আইপিএলের প্রথম দুটো ম্যাচেই বোঝা গেল, আরসিবিকে জিততে গেলে ওপেন করতেই হবে বিরাটকে। কারণ বিরাট এই দলের সেরা ক্রিকেটার। তাই যত বেশি সময় বিরাট ক্রিজে থাকবে তত দলের পক্ষে ভাল। পরে নেমে চার-ছক্কা মেরে প্রতিদিন দলকে জেতাতে পারবে না বিরাট। ওর থিতু হতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একবার সেট হয়ে গেলে ওকে থামানো কঠিন। আর বিরাট পরে নামায় চাপ বাড়ছে দেবদত্ত পাড্ডিকালের উপরেও।
আরও একটা কথা ব্যাঙ্গালোর দলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ক্রিকেটার খুব কম। বিরাট বা ডিভিলিয়ার্স রয়েছে, কিন্তু বাকিদের মধ্যে সেই পরিণত বোধ এখনও তৈরি হয়নি। আর তার ফলে দল নির্বাচনে সমস্যা থেকে যাচ্ছে। সেটা যত তাড়াতাড়ি মেরামত করা যায় তত ভাল।
এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে লোকেশ রাহুলের থেকে ভাল টি ২০ ব্যাটসম্যান হয়তো কেউ নেই। গতকাল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে রোহিত শর্মা যেভাবে খেলেছিল, সেভাবেই এদিন খেলল রাহুল। প্রথমে কিছুটা ধরে খেলল। হাত সেট হয়ে যাওয়ার পর আগুন ধরল ওর ব্যাটে। কোনও বাজে শট খেলেনি। ক্রিকেটীয় শটে রান তুলেছে। তাও আবার ২০০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে। ওর মারা ১৪ টি চার ও ৭ টি ছয় বহুদিন চোখে ভাসবে।
গতকাল রোহিত আর এদিন রাহুল যেভাবে খেলল, তাতে কিন্তু ভারতীয় দলে চাপ বাড়ল শিখর ধাওয়ানের উপর। ওপেনিং জুটিতে ধাওয়ানের জায়গা নিয়ে নিতেই পারে রাহুল। ধাওয়ানকে নিজের জায়গা টিকিয়ে রাখতে গেলে দিল্লির হয়ে এই রকমই কিছু ইনিংস খেলতে হবে।
রাহুলকে অবশ্য এই কাজে সাহায্য করল কোহলি। একবার ৮৩ রানের মাথায়, একবার ৯০ রানের মাথায় দুটি সহজ ক্যাচ ছাড়ল বিরাট। এরকম ক্যাচ মিস সচরাচর বিরাট করে না। তার খেসারত দিল আরসিবি। শেষ ৩ ওভারে উঠল ৬০ রান। তার সিংহভাগই এল রাহুলের ব্যাট থেকেই। নইলে ১৮০ রানের কাছাকাছি থামানো যেত পাঞ্জাবের ইনিংসকে। সেক্ষেত্রে চাপ অনেকটা কমত বিরাটদের উপর। বিরাটদের জখন্য ফিল্ডিং ম্যাচে অনেক সুবিধা করে দিল পাঞ্জাবকে।
তবে এই পাঞ্জাব দলে অবিলম্বে নেওয়া উচিত ক্রিস গেইলকে। কারণ পরপর দুটি ম্যাচে ব্যর্থ গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কবে তার ব্যাটে বল লাগবে, তার আশায় থাকা উচিত নয় রাহুলদের। অভিজ্ঞ কোচ অনিল কুম্বলে সেটা জানেন। আর একবার যদি গেইল-রাহুলের জুটি জমে যাবে তাহলে এই পাঞ্জাবকে হারাবে সাধ্য কার।
আরও একটা কথা, প্রতি বছর ব্যাঙ্গালোরের যে সমস্যা থাকে, সেটা এবছরও রয়েছে। সেটা হল বোলিং ব্রিগেড। চাহাল ও নবদীপ সাইনি ছাড়া কাউকে চোখে পড়ছে না। প্রতি বছর যে ডেল স্টেইনকে কেন এত সুযোগ দেওয়া হয় সেটাই বুঝি না। ওনর যা বয়স, তাতে এই সময় ব্যাঙ্গালোরের কোচ হয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু তাও স্টেইনকে খেলানো হচ্ছে। আর তাতে ব্যাঙ্গালোরের বিশেষ কিছু সুবিধা হচ্ছে না। একই কথা প্রযোজ্য উমেশ যাদবের জন্যও। আর কবে ভাল বল করবে উমেশ। যে দলে এই রকমের দু’জন বোলার রয়েছে তাদের পক্ষে রান ডিফেন্ড করা কিন্তু খুব সমস্যার।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব- ২০ ওভারে ২০৬/৩। রাহুল- ১৩২, শিবম দুবে-৩৩/২। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর- ১০৯/১০। ওয়াশিংটন সুন্দর- ৩০, রবি বিষ্ণোই- ৩২/৩, মুরুগান অশ্বিন- ২১/৩। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ৯৭ রানে জয়ী। ম্যাচের সেরা লোকেশ রাহুল।