দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবকিছু ঠিক থাকলে সামনের ইংল্যান্ড সিরিজে তিনি ভারতীয় দলের বড় দায়িত্ব পেতে পারেন। কিন্তু তিনি ওসব ভাবেন না, হলে হবে, কিন্তু তাড়া কিছু নেই।
রাহুল দ্রাবিড় এমনই মানুষ, তাঁর ৪৮তম জন্মদিনে ভারতীয় দল সিডনিতে লড়াকু ড্র করে দেখাল তাঁর জীবন সংগ্রামের ক্রিকেটেই টেস্টের সুন্দর ও আকর্ষণের কেন্দ্রে। তিনি এভাবেই লড়ে গিয়েছেন দেশ ও বিদেশের মাঠে। পুরো দল যখন ব্যর্থ, তিনি প্রকৃতঅর্থে ‘দ্য ওয়াল’-এর মতোই মানব প্রাচীর দিয়ে বিপক্ষের জয়কে আটকে দিয়েছেন।
কখনও নিজের দলের অনুকূলে জয় নিয়ে এসেছেন, আবার কখনও বা বিপক্ষের ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাকে নস্যৎ করে ছেড়েছেন।
তিনি প্রকৃতঅর্থেই ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাচীর। তাঁর বিশেষ দিনে সিডনিতে হনুমা বিহারী ও অশ্বিনের লড়াই তাঁর প্রতি অসীম গুরুদক্ষিণাই বটে। হয়তো তিনি ওই দুই ক্রিকেটারের শিক্ষক নন, কিন্তু ব্যকরণ সমৃদ্ধ লড়াকু এবং সংকল্পবদ্ধ ক্রিকেটের সংজ্ঞাই তো বহন করেন রাহুল দ্রাবিড়। ওই ধরনের ক্রিকেট যাঁরা খেলেন, তাঁদের শিক্ষক হিসেবেই তিনি থেকে যাবেন।
https://twitter.com/veerbadra69/status/1348465495771516928
৫০৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ২৪,২০৮ রান দিয়ে দ্রাবিড়ের ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা বোঝানো সম্ভব নয়। তিনি মানে ক্রিকেটের এক রোমান্টিসিজম, যাঁর ব্যাটিং মুমূর্ষুকে রোগীকে জীবনদান করে দেবে, এমনই সংকল্প ও প্রতিজ্ঞা ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ে।
সেই ক্রিকেটই উপহার দিলেন অশ্বিন ও হনুমা। তাঁরা দেখালেন কাপ ও ঠোঁটের দুরত্ব খানিক সময়ে হাজার মাইলের থেকেও বেশি হতে পারে। সিডনি টেস্টের পঞ্চম দিনে অনবদ্য খেলে ম্যাচ ড্র করেছে টিম ইন্ডিয়া। সেই কারণে ম্যাচ শেষে উচ্ছাসে ফেটে পড়েন দলের সদস্যরা।
হনুমার ১৬১ বলে ২৩ রানের ইনিংসকে সেঞ্চুরির সঙ্গে তুলনা করে অশ্বিন বলেছেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা একেবারেই সহজ নয়। হনুমার এই ইনিংসের জন্য গর্ব বোধ করা উচিত। ওর এই ইনিংস সেঞ্চুরির সমান। ব্যক্তিগত ভাবে বলতে পারি, নিজের আজকের ইনিংস আমার সেরার তালিকায় থাকবে।’’
সব থেকে বড় কথা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বরাবর ঝলসে উঠেছে রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যাট। তাই তাঁর জন্মদিনে ভারতের দুই ক্রিকেটারের লড়াইও ইতিহাস হয়ে থাকবে।