দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই কয়েকদিন আগেই তিনি কলকাতায় ঘুরে গিয়েছিলেন। ইডেন পরিদর্শন করে খুশি হয়েছিলেন, আপ্লুত হন পুরনো সেই স্মৃতির কথা মনে করে। এমনকি সেদিন আহমেদাবাদ গিয়েছিলেন হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার প্রেসিডেন্ট হয়ে, সেখানে সৌরভদের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচও খেলেছিলেন।
টানা কর্মসূচীতে ব্যস্ত মহম্মদ আজহারউদ্দিন। বর্ষশেষে এসে বুধবার রাজস্থান সফরে এসে ভয়ঙ্কর এক পথ দুর্ঘটনায় পড়ে আজহারের গাড়ি। তিনি কোনওক্রমে বেঁচে গিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে গেলেও কোনও রকম ক্ষতি হয়নি আজহারের। যদিও গাড়িতে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত সচিব চোট পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর আঘাতও গুরুতর নয়।
বুধবার সপরিবারে রাজস্থানের রণথম্বোরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন আজহার। কোটা মেগা হাইওয়েতে সুরওয়াল থানার কাছেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আচমকা গাড়িটি কোনও ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। তারপর সেটি উলটেও যায়। স্বাভাবিক ভাবেই গাড়িটির প্রবল ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পরে দেখা যায়, একেবারে অক্ষত রয়েছেন আজহার। পরে তিনি ও তাঁর পরিবার একটি অন্য গাড়িতে করে স্থানীয় এক হোটেলে যান বিশ্রাম নিতে। তবে কী কারণে তাঁর এমন ঝটিতি রাজস্থান সফর সেটি আজহারের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
অবসর নেওয়ার পর প্রশাসকের ভূমিকায় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। গত সপ্তাহেই আহমেদাবাদে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সভায় নিজের রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বোর্ড সচিব জয় শাহের দলে ছিলেন।
মোতেরা স্টেডিয়ামের ওই ম্যাচে জয় শাহর দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসের সুবাদেই সৌরভের অর্ধশতরানের ইনিংস সত্ত্বেও জয় শাহর দলই ম্যাচ জিতে নেয়। ম্যাচে আজহারের সেই কপিবুক স্টাইল কবজির মোচড়ে ফ্লিক খেলতে দেখা গিয়েছিল।
ক্রিকেটার হিসেবে ৯৯টি টেস্ট খেলার পাশাপাশি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আজহার। পরে গড়াপেটা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় আচমকাই ছেদ পড়ে কেরিয়ারে। কিন্তু তারপর হাইকোর্ট থেকে তাঁকে অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়। বিসিসিআই তাদের নির্বাসন তুলে নেয় আজহারের মাথা থেকে। তিনি কলঙ্কমুক্ত হয়েই প্রশাসনে আসেন।