দ্য ওয়াল ব্যুরো: গভীর সঙ্কটে বাংলার নামী প্রাক্তন গোলরক্ষক প্রশান্ত ডোরা। কলকাতার তিন প্রধানে খেলা এই গোলরক্ষক বিরল রোগ দুরারোগ্য হেমোফাগোসিটিসি লিম্ফহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) আক্রান্ত। তাঁর শারীরিক অবস্থা অতি সঙ্কটজনক।
টাটা মেমোরিয়াল রিসার্চ সেন্টারে চিকিৎসা চলছে প্রশান্তর। বলা চলে, জীবনযুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। প্রশান্তর দাদা ময়দানের আরও এক বিখ্যাত গোলরক্ষক হেমন্ত ডোরার বক্তব্য, ‘‘ভাইয়ের প্লেটলেট দ্রুত নেমে যাচ্ছে। O+ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন। যদি কেউ O+ রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে সুস্থ করে ভাইকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, আড়াই মাস আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রশান্ত। তারপর থেকে ক্রমেই কমতে থাকে প্লেটলেট। চিকিৎসকরা প্রথমে রোগ ধরতে না পারলেও পরে দেখা যায়, প্রাক্তন জাতীয় গোলরক্ষক প্রশান্ত ডোরা আক্রান্ত হয়েছেন এইচএলএইচ রোগে। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র রক্তের ব্যবস্থা করে জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনে আরও রক্তের ব্যবস্থা তিনি করবেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে গোলপোস্টের নিচে তিনি ছিলেন অতন্দ্রপ্রহরী। দলের হয়ে বাঁচিয়েছেন বহু গোল। প্রশান্ত ডোরা খেলেছেন কলকাতার তিন প্রধানেই। তার আগে অবশ্য তিনি খেলেছিলেন কলকাতা টালিগঞ্জ অগ্রগামী এবং ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্টেও। ১৯৯৯ সালে ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন ৪৪ বছরের এই তারকা গোলরক্ষক।
উল্লেখ্য, বিখ্যা্ত এই গোলরক্ষক বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফি খেলেছেন। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান হয়ে জেসিটিতেও সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। ১৯৯৯ সালে প্রথম ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন প্রশান্ত। প্রি-অলিম্পিক কোয়ালিফাইং-এর ম্যাচে থাইল্যাতন্ডের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক হয়। পরবর্তীকালে সাফ কাপ, সাফ গেমসেও দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। খেলতে খেলতে প্রশান্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্কে চাকরি পান। খেলা ছাড়ার পর ছোটদের কোচিং করাচ্ছিলেন।
তিনি আগে থাকতেন বৈদ্যবাটিতে, তারপর চলে আসেন দমদম নাগেরবাজারের ফ্ল্যাটে। প্রথমে প্রশান্তকে দমদমের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করতে হয়, তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আমরিতেও। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় রোগটা ঠিক কি তা কোনও ডাক্তার ধরতে পারেনি। পরে দেখা যায় প্রশান্ত HLH রোগে আক্রান্ত। প্রশান্তর স্ত্রী সৌমি ডোরাও বলেছেন, ‘‘রক্ত লাগবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্তরও লাগবে। যা দেওয়া হচ্ছে তা কাজ করছে না, সেটিও একটা বড় চিন্তার কারণ।’’