দ্য ওয়াল ব্যুরো : এর আগেরবারের আইপিএলে তিনি হয়েছিলেন ভিলেন। এবার হিরো।
সেবার তিনি ছিলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক। ‘ক্যাপ্টেন জেশ্চার’ না দেখিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন মাঁকড়ীয় স্টাইলে নন স্ট্রাইকার এন্ডে দাঁড়ানো যশ বাটলারকে রানআউট করে দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বলা হয়েছিল, ক্রিকেট হল জেন্টলম্যান গেম, সেই খেলার উৎকর্ষতা ও ভদ্রতাকে বিসর্জন দিলেন এই নামী তারকা।
এবার কী বলবেন অশ্বিনের সমালোচকরা? গত সোমবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে ওরকমভাবেই অশ্বিনের সামনে সুযোগ এসেছিল অ্যারণ ফিঞ্চকে আউট করার। অশ্বিন ডেলিভারি করার আগের মুহূর্তে খেয়াল করেন ফিঞ্চ পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয় এসেছেন। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসের এই অভিজ্ঞ স্পিনার আগেরবারের মতো মাঁকড়িয় আউট করার রাস্তায় যাননি।
তবে এও বলে দিয়েছেন, ‘‘এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং, পরে এমন কেউ করলে তখন আমি রানআউট করে দেব, কেউ যেন তখন আমার দোষ না ধরেন!’’
গতবার বাটলারকে আউট করার পরে সমালোচনা হলেও তিনি যে ক্রিকেট আইনের মধ্যেই এমন করেছেন, তাও বলেছিলেন। খোদ ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাচীন সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) পর্যন্ত অশ্বিনের ওই ঘটনাকে ক্রিকেটের স্পিরিট বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে। এমসিসির ঐ কমিটিতে ছিলেন আইপিএলের দল দিল্লি ক্যাপিট্যালসের বর্তমান কোচ রিকি পন্টিং। যাঁর অধীনে এবারের আসরে দিল্লিতে খেলছেন অশ্বিন।
এটাই মনে হয় ক্রিকেটের বড় রসিকতা। পন্টিং অবশ্য এবার আইপিএলের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, অশ্বিন এরকম আর করবেন না, কারণ তিনি দলে রয়েছেন। কোচ হিসেবে পুরোপুরি দায়িত্ব নিয়েই যে তিনি করেছেন এই মন্তব্য, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে সোমবার ম্যাচেই। যেখানে এমন আউটের সুযোগ পেয়েও করেননি অশ্বিন।
ঘটনা ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ ডেলিভারির আগে। দিল্লির করা ১৯৬ রানের জবাবে নিজেদের ইনিংসের ২.৩ ওভার শেষে ১৮ রান করেছিল ব্যাঙ্গালুরু। বাঁহাতি ওপেনার দেবদূত পাল্লিকাল ৪ বলে ৩ রান নিয়ে তখন স্ট্রাইকে। অপরপ্রান্তে ছিলেন ১১ বলে ১২ রান করা অ্যারন ফিঞ্চ। চতুর্থ ওভারটি করছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
সেই ওভারের চতুর্থ ডেলিভারি করার সময় নিজের রানআপ ও অ্যাকশনের প্রায় অর্ধেকের বেশি শেষ করে দাঁড়িয়ে যান অশ্বিন। দেখা যায় পপিং ক্রিজ ছেড়ে অনেক বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন নন স্ট্রাইকার অ্যারন ফিঞ্চ। যার ফলে মাঁকড়ীয় আউট করার সহজতম সুযোগ পেয়ে যান অশ্বিন। তবে তিনি আর এবার তা করেননি। বরং হালকা মজার ছলে সতর্ক করে দিয়েছেন ফিঞ্চকে।
অশ্বিনের এই ঘটনা আলোড়ন তুলেছে আইপিএলসহ পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। এই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ কেউ বলছেন, গত আসরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন অশ্বিন। আবার কারও কারও ধারণা রিকি পন্টিংয়ের ছোঁয়ায় বদলে গেছেন এই অফস্পিনার।
তবে আসল ঘটনা ভিন্ন। মূলত ব্যাটসম্যানদের শেষবারের মতো সতর্ক করতেই এবার রানআউট করেননি অশ্বিন। যা তিনি জানিয়েছেন ট্যুইটারে। ম্যাচের পর তিনি লিখেছেন, ‘‘বিষয়টা পরিষ্কার করি। এটা ২০২০ সালের প্রথম এবং শেষ ওয়ার্নিং ছিল। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলাম। পরে আবার আমাকে দোষারোপ করবেন না। তবে যাইহোক, অ্যারন ফিঞ্চ এবং আমি খুব ভাল বন্ধু।’’