নিঃশব্দে পার হল শৈলেন মান্নার ৯৭তম জন্মবার্ষিকী, ক্ষোভ ও শ্রদ্ধায় একাকার পদ্মশ্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ময়দানে শৈলেন মান্নার (sailen manna) জন্মদিন (birthday) ১ সেপ্টেম্বর দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেন এক প্রয়াত কর্তা। গ্রিয়ার স্পোর্টস ক্লাবের (greer Sports club) কর্মকর্তা অঞ্জন নাগ এই দিনে ময়দানে অভিযান করতেন। ফুটবলের পদ
শেষ আপডেট: 1 September 2021 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ময়দানে শৈলেন মান্নার (sailen manna) জন্মদিন (birthday) ১ সেপ্টেম্বর দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেন এক প্রয়াত কর্তা। গ্রিয়ার স্পোর্টস ক্লাবের (greer Sports club) কর্মকর্তা অঞ্জন নাগ এই দিনে ময়দানে অভিযান করতেন। ফুটবলের পদ্মশ্রীর ছবি নিয়ে সাড়ম্বরে বের হতো সেই র্যালি। এমনকি তাঁর বাড়িতে যেতেন ওই কর্তা, ফুল, মিস্টি নিয়ে।
সেই কর্তাও বিদায় নিয়েছেন এক দশক হতে চলল। সেইভাবে মান্নাদাকে কেউ মনে করেন না। ব্যতিক্রম যদিও তাঁর অন্তরের ক্লাব মোহনবাগান (mohun bagan)। এদিন সকালে সচিব সৃঞ্জয় বসু ও সকলের প্রিয় ক্লাব কর্তা সঞ্জয় (বাপ্পা) ঘোষ মিলে শ্রদ্ধা জানান শৈলেন মান্নার প্রতিকৃতিতে। ছিলেন হকি সচিব সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এবার মোহনবাগান ক্লাবের ড্রেসিংরুমের নামকরণ হয়েছে প্রবাদপ্রতীম ফুটবলারের নামে, যাঁর ২০১২ সালে জীবনাবসান হয়। শৈলেন মান্না মানেই ইতিহাস। ইংল্যান্ড ফুটবল সংস্থার তরফ থেকে একমাত্র এশিয়ান অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নাম প্রথম ১০ জন অধিনায়কের তালিকায় রয়েছে। এটি এক বিরল সম্মান। তিনি ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন।

খেলা শেষে ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পা স্পর্শ করে সেই অমর উক্তি, ‘‘আপনাদের পা কি লোহার?’’ সেটি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। খালি পায়ে খেলে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। বহু আন্তর্জাতিক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রেখেছিলেন আজীবনের এই মোহনবাগানী। তিনি টানা ১৯ বছর খেলেছিলেন সবুজ মেরুনে।
এদিন ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেছেন, ‘‘শৈলেন মান্নার মতো কিংবদন্তি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন সারাজীবন। অন্ততকাল ধরে তাঁর পুজো হবে এই ক্লাবে। তাঁর খ্যাতি দিনদিন আমাদের কাছে বৃদ্ধি পাবে, তিনি না থেকেও আমাদের কাছে থাকবেন। তাই ক্লাবের ঐতিহাসিক ড্রেসিংরুমের নামকরণ তাঁর নামে করা হয়েছে।’’
এমনকি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও এই কিংবদন্তির ছবিতে মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনিও মান্নার অকৃত্রিম অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভও রয়েছে কন্যা নীলাঞ্জনা সান্যালের। তাঁর মনে হয়েছে বাবাকে সেইভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাঁর নামে নেই রাস্তা, কিংবা স্টেডিয়ামের নামকরণ। এমনকি কোনও ফুটবল অ্যাকাডেমির নামেও তিনি নেই। অথচ সবুজ মেরুন ক্লাব এই অসামান্য স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তিনি খুশি নন। বাবার মৃত্যুর পরে ক্লাবে দেহ নিয়ে যেতে দেননি তিনি। কন্যার বক্তব্য, বাবা বেঁচে থাকতেও তাঁর খোঁজ নেয়নি ক্লাব, তাই আমরাও শেষযাত্রায় ক্লাবে যেতে দিইনি। এখন এসব করে কোনও লাভ নেই।