দ্য ওয়াল ব্যুরো: সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ( এআইএফএফ) কাজকর্মে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিশ্ব ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফা। তারা জানিয়েছে, কী করে একটা সংস্থা দিনের পর দিন নির্বাচন না করে থাকতে পারে।
শেষ করে ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন হয়েছে, সেটি বলার জন্য পরিসংখ্যানবিদ প্রয়োজন। কারণ দেশের ফুটবল কর্তারা নিজেরা গদি বাঁচানোর জন্য দিনের পর দিন কোনও নির্বাচন করেন না। তাঁদের দেশের ফুটবল উন্নতি কী করে হবে, সেদিকে মন নেই। তাঁরা বরং চিন্তা করেন কিভাবে ফেডারেশনের অর্থে দেশ-বিদেশ ঘুরে অন্য দেশের ফুটবল পরিকাঠামো দেখা যায়।
সোমবার নয়াদিল্লিতে ফেডারেশনের বার্ষিক সভা। সেই সভায় কোনও নির্বাচন প্রক্রিয়া থাকছে না। বৈঠক হবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। এবং যাঁরা পদে রয়েছেন, তাঁরাই ফের চারবছরের জন্য গদিতে বসে থাকবেন। সেই কারণেই এআইএফএফ-র প্রেসিডেন্ট পদে প্রায় ১২ বছর ধরে রয়েছেন প্রফূল প্যাটেল, এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন সুব্রত দত্ত।
কেন কী কারণে নির্বাচন হয় না ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনে, সেই বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করল ফিফা। তারা এই বিষয়ে রিপোর্ট নিতে চাইবে ফেডারেশনের কাছে। মনে করা হচ্ছে, প্রাক্তন ফুটবলার কল্যাণ চৌবেই নাকি ফিফার কাছে ফেডারেশনের নামে নালিশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ফেডারেশনের পদে থাকা মানুষরা রয়ে যান। কোনও অন্যথা ঘটে না।
ফেডারেশনের এখনকার কার্যকরী কমিটির চার বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে সোমবার। ২০১২ সাল থেকে সভাপতি পদে থাকা প্রফুল্ল পটেলের এবারের নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার নেই। গত মাসে এআইএফএফ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়, বর্তমান কার্যকরী কমিটিকেই পুনর্বহাল করা হোক। কারণ আদালত নিযুক্ত প্রশাসকরা নির্বাচন করার জন্য নতুন সংবিধান এখনও তৈরি করে উঠতে পারেননি। কিন্তু সেই মামলার শুনানি এখনও শুরু হয়নি।
ফিফা এই বিষয়টি মোটেই ভালভাবে নেয়নি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘‘নির্বাচন নিয়ে আমরা এআইএফএফ-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি। ফিফার সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা সব সদস্য দেশ মেনে চলবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।’’ ১৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, ফুটবল সংক্রান্ত ব্যাপারে সব সদস্য দেশকে নিরপেক্ষভাবে চলতে হবে। তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
ফেডারেশনের এক মুখপাত্রের বক্তব্য, ‘‘নির্বাচনের কোনও প্রক্রিয়াই এখনও শুরু হয়নি। রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ হয়নি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি শুরু হয়নি। ফলে এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করার কোনও সম্ভাবনা নেই। এখনকার কার্যকরী কমিটিকেই রেখে দেওয়ার জন্য কোনও রিজিউলুশন পাস হবে কিনা, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।’’
এর আগে ফেডারেশনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে আদালত কোর্ট অব আরব্রিটেশন কমিটি তৈরি করে। তাতে রাখা হয় প্রাক্তন ফুটবলার ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় ও প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশিকে। তাঁরাও এই বিষয়ে নীরব রয়েছেন। সেই বিষয়টিও জানতে চেয়েছে ফিফা।