দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের কারণে চলতি মরসুম শেষ হতে দেরি হয়েছে। আর তাই আগামী মরসুম কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হওয়ার কথা ছিল লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের। কিন্তু তার আগেই বড় ধাক্কা খেল এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলা দল। জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত হয়েছেন দলের প্রধান তিন ফুটবলার নেমার জুনিয়র, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া ও লিওনার্দো পেরেদেস। তার ফলে মরসুম শুরুর আগে চাপে এই ফরাসি ক্লাব।
বুধবার তিন ফুটবলারের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর ঘোষণা করা হয়েছে ক্লাবের তরফে। যদিও ক্লাব কোনও ফুটবলারের নাম জানায়নি। তবে বিখ্যাত ফরাসী ক্রীড়া পত্রিকা লা ইকুইপ জানিয়েছে, যে তিন ফুটবলার আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা হলে নেমার, দি মারিয়া ও পেরেদেস।
পিএসজির তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা হল, “তিনজন পিএসজি ফুটবলার কোভিড পজিটিভ হয়েছেন। তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাকি সব ফুটবলার ও কোচিং স্টাফকেও আগামী দিনে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।”
ফরাসী ক্রীড়া পত্রিকা লা ইকুইপ জানিয়েছে, গত মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারের পরে ছুটি দেওয়া হয়েছিল ফুটবলারদের। ছুটি কাটিয়ে ফেরার পরেই দুই ফুটবলারের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। সেই সময় দুই আর্জেন্টাইন দি মারিয়া ও পেরেদেসের নাম জানিয়েছিল এই পত্রিকা। এবার তৃতীয় আক্রান্ত হিসেবে নেমারের নাম জানিয়েছে তারা।
জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে পিএসজির একাধিক তারকা ছুটি কাটাতে স্প্যানিশ আইল্যান্ড ইবিজাতে গিয়েছিলেন। সেখানেই পরিবার ও বন্ধুদের সংস্পর্শে আসেন তাঁরা। লিগ ওয়ানের নিয়ম হল, কোনও দলের অন্তত চারজন ফুটবলার করোনা আক্রান্ত হলে সেই দলের সবাই একসঙ্গে অনুশীলন করতে পারবেন না। আর যদি তেমন হয়, তাহলে সেই ক্লাবের খেলাও পিছিয়ে যেতে পারে।
এই ঘটনার পরে অবশ্যই লিগ ওয়ানের কর্তৃপক্ষের উপর আঙুল উঠছে। কারণ, আগামী শনিবার লেন্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল পিএসজির। অথচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলে ওঠায় দলকে অতিরিক্ত ছুটি কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে পিএসজির ম্যাচ পিছিয়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর করা হয়। কিন্তু তার মধ্যেই এই সংক্রমণের খবর এল।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ছুটির কী দরকার ছিল? কারণ, গত ছ’মাসে মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলেছে পিএসজি। সেক্ষেত্রে ফুটবলারদের ক্লান্ত থাকার কথা নয়। তাহলে কি ক্লাবের কাছে মাথা নিচু করছে লিগ কর্তৃপক্ষ। আর এই করতে গিয়ে লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল।