দ্য ওয়াল ব্যুরো: লড়াই করলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও নবদীপ সাইনি। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত অকল্যান্ডে হারের মুখ দেখতে হল ভারতকে। হ্যামিলটনের পরে অকল্যান্ডে হেরে সিরিজে হারলেন বিরাটরা।
২৭৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটিং। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে উইকেট হারিয়ে বসেন দুই ওপেনার পৃথ্বী শ ও ময়ঙ্ক আগরওয়াল। ময়ঙ্ক মাত্র ৩ রান করে আউট হন। পৃথ্বী করেন ২৪। অধিনায়ক কোহলি মাত্র ১৫ রান করে সাইনির বলে বোল্ড হন। এই সিরিজে সুরন্ত ফর্মে থাকা লোকেশ রাহুলও মাত্র ৪ রান করে আউট হন। কেদার যাদব করেন ৯। মাত্র ৯৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ভারতীয় ব্যাটিং।
দেখে মনে হচ্ছিল বিশাল ব্যবধানে হারবে ভারত। কিন্তু পার্টনারশিপ গড়লেন শ্রেয়স আইয়ার ও রবীন্দ্র জাদেজা। আগের দিনের ফর্ম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আইয়ার। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি করার পরেই ৫২ রানের মাথায় আউট হন আইয়ার। তারপর দেখা গেল তিনটে পার্টনারশিপ। প্রথমে শার্দুল ঠাকুরের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়লেন জাদেজা। শার্দুল ১৮ করে আউট হলে তারপর সাইনিকে সঙ্গে নিয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন জাড্ডু।
দুই ব্যাটসম্যান মিলে সাবলীল খেলা খেলতে থাকেন। নবদীপ দেখালেন তিনি ব্যাট করতেও পারেন। একটা সময় তো মনে হচ্ছিল দু'জনে মিলে ভারতকে জিতিয়ে দেবেন। কিন্তু তখনই ছন্দপতন। ৪৫ রানের মাথায় আউট হয়ে গেলেন নবদীপ। চাহালও কিছুটা চেষ্টা করলেন। কিন্তু ১০ রানের মাথায় রানআউট হলেন তিনি। জাদেজা ৫৫ করেন। বাধ্য হয়ে বড় শট মারতে গিয়ে জাদেজা আউট হতেই শেষ হয়ে গেল ম্যাচ। ৪৮.৩ ওভারে ২৫১ রানে অলআউট হয়ে গেল ভারত। ২২ রানে ম্যাচ জিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের নামে করল নিউজিল্যান্ড।
অকল্যান্ডে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বিরাট। কিন্তু শুরুটা বেশ ভাল হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। আগের দিনের মতোই শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল গাপটিলকে। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট পড়েনি। নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন চাহাল। ৪১ রানের মাথায় নিকোলসকে আউট করেন তিনি।
তারপরে গাপটিলের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন টম ব্লান্ডেল। ২২ রানের মাথায় তাঁকে ফেরান শার্দুল। এদিকে নিজের হাফসেঞ্চুরি করেন গাপটিল। দেখে মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরিও করবেন। তখনই ৭৯ রানের মাথায় রানআউট হলেন গাপটিল। তিনি ফিরতেই ধস নামে কিউয়ি ব্যাটিংয়ে। টেলর ছাড়া কেউ দাঁড়াতে পারেননি।
একের পর এক উইকেট পড়ছিল। ৪২তম ওভারে ১৯৭ রানের মাথায় ৮ উইকেট পড়ে যায় নিউজিল্যান্ডের। দেখে মনে হচ্ছিল অলআউট হয়ে যাবেন টেলররা। কিন্তু এদিনই অভিষেক হওয়া জেমিসনের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন টেলর। আগের দিনের ফর্মেই ব্যাট করছিলেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দিলেন ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার জেমিসন। বেশ কিছু বড় শট খেলেন তাঁরা। ৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন দুই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭৩ করে নিউজিল্যান্ড। টেলর ৭৩ ও জেমিসন ২৫ করে অপরাজিত থাকেন।
এদিনের হারের পরে অনেকগুলো প্রশ্ন উঠে গেল। নিউজিল্যান্ডে ভাল ফর্মে থাকা শুভমান গিলকে কেন সুযোগ দেওয়া হল না। মনীশ পাণ্ডে টি ২০ সিরিজে এত ভাল খেলার পরেও কেন তাঁর জায়গায় কেদার যাদবকে খেলিয়ে যাওয়া হল। ১৯৭ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও কী ভাবে ২৭৩ তুলল নিউজিল্যান্ড। এইসব প্রশ্ন নিয়েই মাউন্ট মৌঙ্গানুইয়ে সম্মানরক্ষার ম্যাচে নামবেন বিরাটরা।