দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্বকাপের পরেই বোর্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় ক্যারিবিয়ান সফরের জন্য ৪৫ দিন বাড়ানো হচ্ছে রবি শাস্ত্রীদের চুক্তি। তারপরেই হয়তো নতুন কোচ নির্বাচন করতে পারে বোর্ড। কোচের জন্য আবেদনও নেওয়া শুরু করেছে বোর্ড। শোনা যাচ্ছে, কোহলিদের কোচ হওয়ার দৌড়ে আছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। গ্যারি কার্স্টেন থেকে শুরু করে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ হয়ে মাহেলা জয়বর্ধনে, এঁরা সবাই নাকি আবেদন করেছেন ভারতের কোচ হওয়ার জন্য।
বীরেন্দ্র সেহওয়াগের অবশ্য কোচের আবেদন নতুন নয়। এর আগেও ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বিরাটদের কোচ হতে চেয়েছিলেন বীরু। কিন্তু সে সময় শচীন, সৌরভ, লক্ষ্মণের কমিটি রবি শাস্ত্রীকেই ভারতের কোচের দায়িত্ব দেন। এ বার ফের বীরু আবেদন করেছেন বলে বোর্ড সূত্রে খবর। ভারতের কোচ হওয়ার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া দরকার তার বেশিরভাগ পূর্ণ হলেও দু'বছরের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা নেই তাঁর। যদিও দু'বার আইপিএল-এ কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের তিনি মেন্টর ছিলেন, কিন্তু সেটা কোচিং নয়।
ভারতকে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জেতানো কোচ গ্যারি কার্স্টেন ফের আবেদন করেছেন বলে খবর। বিশ্বকাপের পর ভারতের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। যদিও তারপর আইপিএল-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কোচিং করিয়েছেন তিনি। তাই বিরাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো। সেই সঙ্গে ভারতে কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্যও রয়েছে। তবে আইপিএল-এ সাফল্য পাননি গ্যারি। এটা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে।
বোর্ড সূত্রে খবর, শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক মাহেলা জয়বর্ধনেও রয়েছেন কোহলিদের কোচ হওয়ার দৌড়ে। আইপিএল-এ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচ তিনি। তাঁর কোচিংয়ে দু'বার আইপিএল জিতেছেন রোহিত শর্মারা। এ ছাড়াও চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন মাহেলা। তাই কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা যেমন তাঁর আছে, তেমনই সাফল্যও আছে। বিরাটের ডেপুটি রোহিতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো।
এ ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে কোচ হওয়ার দৌড়ে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রাক্তন কোচ টম মুডিও আবেদন করতে পারেন। কারণ এই মুহূর্তে কোনও অফার নেই এই প্রাক্তন অজি ব্যাটসম্যানের কাছে। আবেদন করতে পারেন পাক কোচ মিকি আর্থারও। বিশ্বকাপের খারাপ ফলের পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই নিয়েছে পিসিবি।
বোর্ড সূত্রে খবর, রবি শাস্ত্রীও ফের আবেদন করতে পারেন। তিনি আবেদন করলে নতুন করে বিবেচনা করা হবে তাঁর নাম। তবে বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, নিজের চুক্তি রিনিউ করার ব্যাপারে খুব একটা নিশ্চিত নন শাস্ত্রী। কারণ, ভারতের কোচ হিসেবে তিনি পান বার্ষিক ১২ কোটি টাকা। অথচ ধারাভাষ্যকাররা এর থেকে বেশি টাকা পান। আর ধারাভাষ্যকার হিসেবে শাস্ত্রী বেশ জনপ্রিয়। তাই তাঁকে ফের তাঁর পুরনো রূপে দেখা যাতে পারে।
তবে সব আবেদনের শেষে কোচ বাছাই কে করবেন তাই নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কপিল দেব, অংশুমান গায়কোয়াড়, শান্তা রঙ্গস্বামীর অ্যাড হক কমিটির উপরেই কি দেওয়া হবে সব দায়িত্ব। নাকি প্রশাসনিক কমিটি নিজেই বাছাই করবেন কোচ। সেখানে আবার বিনোদ রাই ও ডায়ানা এডুলজির মধ্যে মতের মিল হয় কিনা, তার উপরেও নির্ভর করছে কোচ বাছাই প্রক্রিয়া।