দ্য ওয়াল ব্যুরো: আট বছর আগে এই এপ্রিল মাসেরই ২ তারিখে গোটা ভারতে শুরু হয়ে গিয়েছিল অকাল দিওয়ালি সেলিব্রেশন। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জিতেছিল ধোনির ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকান গ্যারি কার্স্টেনের কোচিংয়েই এই সাফল্য এসেছিল ভারতের। বিশ্বকাপ দেওয়ার পরেই কোচিংয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন কার্স্টেন। কিন্তু এখন তিনি ফের ভারতে। আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কোচ হিসেবে। আর আট বছর পরে ১১’র বিশ্বকাপ নিয়ে মুখ খুললেন কার্স্টেন। বললেন, গ্রুপ পর্যায়ে খুবই সাধারণ ক্রিকেট খেলেছিল ভারত। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বদলে যায় ছবিটা।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ আফ্রিকার এই বাঁ’হাতি ওপেনার বলেন, “সে বার গ্রুপ পর্যায়ে এমন কিছু আহামরি ক্রিকেট খেলেনি ভারত। আমরা বেশ কিছু ম্যাচ খুব লড়াই করে জিতি। কিন্তু কোয়ার্টারফাইনাল থেকে বদলে যায় ছবিটা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটাই বদলে দেয় গোটা দলের শরীরী ভাষা। তারপরে সেই রেশ বিশ্বকাপের ফাইনাল জেতা পর্যন্ত চলেছিল।”
এই প্রসঙ্গে ফাইনালের কথাও তুলে আনেন কার্স্টেন। তাঁর কথায়, শ্রীলঙ্কা ২৭৪ করার পরেও চাপে পড়েনি দল। এমনকী ভারতের ৩১ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও দলের বিশ্বাস ছিল যে জেতা সম্ভব। কার্স্টেন বলেন, “৩১ রানে সেহওয়াগ-শচীন আউট হয়ে গেলেও আমরা জানতাম, আমাদের দলে বেশ কিছু ভালো ক্রিকেটার আছে। সুতরাং ম্যাচ আমরা জিততেই পারি। আর ঠিক সেটাই হয়েছিল। কোহলি, গম্ভীর ও ধোনির কাঁধে ভর করে ম্যাচ জিতেছিলাম আমরা। আমি জানতাম কোনও একজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করলেই আমরা ম্যাচ জিতে যাব। ফাইনালের দিন ওয়াংখেড়েতে গম্ভীর আমাদের জন্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর ধোনি তার ফিনিশারের ভূমিকায় এসেছিল।”
ফাইনালের দিন যুবরাজের আগে ধোনির নামা নিয়ে তাঁর বায়োপিকে দেখানো হয়েছিল, মুরলীধরণ বল করতে আসা মাত্রই নিজে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ধোনি। অনেকটা একই রকমের কথা বলেন কার্স্টেন। তিনি বলেন, “তখন বল করছিল মুরলী। তাই আমরা ভেবেছিলাম ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকলে বোলারের পক্ষে সমস্যা হবে। সেইজন্যই যুবরাজের আগে ব্যাট করতে নেমেছিল ধোনি। আর তার ফল কী হয়েছিল, সেটা তো গোটা দেশ জানে।”
অবশ্য এই সাক্ষাৎকার থেকে ভারতের এ বারের দল নিয়েও মন্তব্য করেন কার্স্টেন। তিনি বলেন, “বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতের এ বারের দলও বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে ভারতের বোলিং আক্রমণ এখন অনেক ভালো। ইংল্যান্ডের পরিবেশ ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে বিশ্বকাপে ভারতের ফল ভালোই হবে।”