রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল, বাংলাদেশের বাঘেদের হারিয়ে এশিয়া জয় ভারতের
দ্য ওয়াল ব্যুরো : রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। সারাক্ষণ পেন্ডুলামের মতো কখনও ভারতের দিকে, কখনও বংলাদেশের দিকে হেলল খেলা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে শেষ বলে খেলা জিতল ভারত। বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পরপর সপ্তম বারের জন্য এশিয়া কাপ চ্যাম্
শেষ আপডেট: 28 September 2018 19:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো : রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। সারাক্ষণ পেন্ডুলামের মতো কখনও ভারতের দিকে, কখনও বংলাদেশের দিকে হেলল খেলা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে শেষ বলে খেলা জিতল ভারত। বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পরপর সপ্তম বারের জন্য এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো রোহিত বাহিনী। সেইসঙ্গে একদিনের ক্রিকেটে ভারতের ৭০০ তম জয় এল এ দিন।
শুরুতে লিটন দাসের সঙ্গে মেহেদি হাসানকে নামানোর ফাটকা কাজে লেগে গেছিল বাংলাদেশের জন্য। ভারতের পেস বোলিংকে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি দুজন। ৬-এর উপর রেটে রান তুলতে থাকেন। কিন্তু ইনিংসের প্রথমার্ধ যদি বাংলাদেশের হয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয়ার্ধ হলো ভারতের। দুরন্ত কামব্যাক করলেন ভারতীয় বোলাররা।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন লিটন দাস। গোটা এশিয়া কাপে চুপ থাকলেও ফাইনালের মঞ্চে জ্বলে উঠল এই বাঙালির ব্যাট। তাঁকে সঙ্গত দিলেন মেহেদি। দুজন মিলে ১৭ ওভারেই ১০০ রান তোলেন বাংলাদেশের। দেখে মনে হচ্ছিল, এশিয়া কাপের প্রথম ৩০০ হয়তো এ দিনই হবে। ঠিক তখনই ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা বল তুলে দিলেন তাঁর তুরুপের তাস কেদার যাদবের হাতে। ২০.৫ ওভারে ১২০ রানের মাথায় কেদারের হাতে আউট হলেন মেহেদি হাসান।
তারপরেই ধস নামল বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে। ইমরুল কায়েশ ২ করে আউট হলেন। বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ৪ রানের মাথায় কেদারকে ৬ মারতে গিয়ে আউট হলেন। তাড়াতাড়ি প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন মহম্মদ মিথুন ও মেহমুদুল্লাহ রিয়াধও। ১২০ রানে শূন্য উইকেট থেকে ১৫১ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। এর মধ্যেই নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন লিটন দাস।
সৌম্য সরকার চেষ্টা করেছিলেন লিটন দাসের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ার। কিন্তু ভারতের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে রান আসছিল না। বাধ্য হয়ে মারতে গিয়ে আউট হন লিটন ও সৌম্য। লিটন দাস, মেহেদি হাসান ও সৌম্য সরকার ছাড়া বাকি কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে কুলদীপ যাদব ৩ উইকেট, কেদার যাদব ২ উইকেট এবং বুমরাহ ও চাহাল ১ টি করে উইকেট নিয়েছেন। তিনজন ব্যাটসম্যান রান আউট হয়েছেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। ব্যক্তিগত ১৫ রানের মাথায় নাজমুল হোসেনকে মারতে গিয়ে আউট হন শিখর। রায়ুডু মাত্র ২ রান করে আউট হন। তারপর দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে খেলা ধরেন রোহিত শর্মা। কিন্তু ৪৮ রানের মাথায় পুল শট মারতে গিয়ে আউট হন রোহিত। চাপে পড়ে যায় ভারতীয় ব্যাটিং।
তারপর দলের দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দীনেশ কার্তিক ও মহেন্দ্র সিং ধোনি খেলা ধরেন। ধীরে ধীরে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুজন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৭ ও ৩৬ রানের মাথায় দুজনই আউট হন। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় রানের গতিও কমে যায়। কেদার যাদব হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে বেরিয়ে গেলে মনে হয়েছিল ভারতের হাত থেকে হয়তো খেলা বেরিয়ে গেল।
কিন্তু অন্য পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও ভুবনেশ্বর কুমার। তাঁদের পার্টনারশিপে খেলা প্রায় জয়ের কাছে নিয়ে চলে গেছিলেন দুজন। খেলার যখন আর মাত্র ১১ রান বাকি তখন ২৩ রান করে আউট হন জাদেজা। ২১ করে আউট হয়ে যান ভুবনেশ্বরও। চোট নিয়েই ফের নামেন কেদার যাদব। সঙ্গী কুলদীপ যাদব। শেষ বলে এক রান নিয়ে ম্যাচ জেতান কেদার যাদব।
ভারত এশিয়া কাপ জিতলেও ফাইনালে দারুন লড়াই করলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। ধোনি আউট হতে তো মনে হয়েছিল বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে গেছে খেলা। কিন্তু নিজেদের অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেল ভারত।