সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ গুলিচালনার সময় চোখের সামনে মানুষজনকে লুটিয়ে পড়তে দেখেন মাইকেল ভন। রেস্তরাঁয় ঢুকে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার।

মাইকেল ভন
শেষ আপডেট: 15 December 2025 08:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিডনির বন্ডি বিচে (Bondi Beach) মাস শুটিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে একাধিক। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার মাইকেল ভন (Michael Vaughan)। রবিবার হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন তিনি। আচমকা গুলির শব্দ আর আতঙ্ক ছড়াতেই একটি রেস্তরাঁয় ঢুকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বাইরে তখন গুলিবর্ষণ, ভেতরে দরজা বন্ধ করে আটকে থাকতে হয় তাঁকে।
ভয়ের সেই মুহূর্তের কথা পরে নিজেই জানান ক্রিকেট তারকা। তাঁর কথায়, “বন্ডির (Bondi) একটি রেস্তরাঁয় দরজা বন্ধ করে আটকে থাকা ভীষণ ভয়ংকর ছিল। এখন বাড়ি ফিরেছি নিরাপদে। জরুরি পরিষেবা (Emergency Services) আর যে ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদীকে (Terrorist) রুখে দিয়েছিলেন, তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ। যাঁরা এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের সকলের জন্য প্রার্থনা করছি।” ভনের এই বার্তাতেই স্পষ্ট- কতটা কানের পাশ দিয়ে বিপদ গেছে।
শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত এই হামলায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন জখম। রবিবার হানুক্কা (Hanukkah) উৎসব চলাকালীন দুই বন্দুকবাজ অতর্কিতে এই হামলা চালায়। তারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। ঘটনাস্থলেই এক হামলাকারী গুলিতে নিহত হয়। তার ছেলে অর্থাৎ অন্য বন্দুকবাজকে আটক করে পুলিশ, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনায় পাকিস্তান যোগের তথ্য এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই গুলিচালনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা (Terrorist Attack) হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পিত ভাবেই সিডনির ইহুদি সম্প্রদায়কে (Jewish Community) টার্গেট করা হয়েছিল, হানুক্কার প্রথম দিনেই তাই হামলা। ঘটনার পিছনের উদ্দেশ্য ও যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা (Security Agencies) যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে।
নাভিদ ও তার বাবার সঙ্গে কোনও উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের (Extremist Networks) যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ (Anthony Albanese)। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি সারা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ইহুদি সম্প্রদায়কে বলতে চাই—আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের পরিচয় ও বিশ্বাস নিয়ে গর্ব করার পূর্ণ অধিকার আছে।”
কড়া বার্তা দিয়েছেন এদেশের প্রধানমন্ত্রীও। মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করে না ভারত। জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। এমন সময়ে অস্ট্রেলিয়ার পাশে আছেন।