
প্যারিসের ফাইনালে নীরজের থ্রোয়ের মুহূর্তে।
শেষ আপডেট: 9 August 2024 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যারিসে পাকিস্তানের আর্শাদ নাদিমের কাছে হারের পরে ভেঙে পড়েননি নীরজ চোপড়া। তিনি বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আমি চেষ্টা করলেও পারিনি। তবে আমাকে দীর্ঘদিনের চোট লড়াই থেকে পিছিয়ে দিতে পারে। গতবছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যাভলিনে সোনা পাওয়ার পরে নীরজ বুঝতে পারেন তাঁর হাঁটুতে বড় চোট রয়েছে। তিনি এই নিয়ে কোচের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেইসময় অস্ত্রোপচার করানোর ঝুঁকি নেওয়া যায়নি।
সেই কথা মানছেন ভারতের রুপো জয়ী জ্যাভলিন থ্রোয়ার। যিনি টোকিও অলিম্পিক্সে সোনা পেয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়েছিলেন। ফাইনাল ইভেন্ট শেষে নীরজ বলেছেন, চোট নিয়ে আমার অনেকদিনের সমস্যা। এমন বড় ইভেন্টে প্রতিযোগিতা চলার সময় চোটের কথা মাথায় চলে আসে, তার সম্ভাবনা থাকে ৬০ ভাগ। নীরজ মনে করছেন, ফাইনালে তাঁর ক্ষেত্রেও সেই সমস্যা হয়েছে। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন ফের বড় কোনও চোট না লেগে যায়।
প্যারিসের সময় রাত একটার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করে কথা বলেন নীরজের সঙ্গে। তাঁর চোটের বিষয় নিয়ে জানতে চান। নীরজের যে প্যারিসে নামা নিয়ে চাপ ছিল, সেটিও বোঝা গিয়েছে।
মোট ছয়টি থ্রোয়ের মধ্যে ৫টি ফাউল হয়েছে, সেই নিয়ে ভারতের রত্ন জানান, চোট তার একটা কারণ হতে পারে। কারণ জ্যাভলিন থ্রোয়ারদের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ মিটার দৌড়ে এসে থেমে বর্শা ছুড়তে হয়, সেটি করতে গেলে শরীরের যা স্ট্যামিনা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়, সেটাই ট্রেনিংয়ের বড় বিষয়।
নীরজ এও বলেছেন, তিনি এবার বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত যে চোটের স্থানে অস্ত্রোপচার, সেটিও বলে দিয়েছেন ২৪ বছরের তরুণ। নীরজ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ‘‘বেশকিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছে থাকলেও পরিস্থিতি মেনে অনেক কাজ করতে হয়, আমাকেও তাই করতে হয়েছে। প্যারিসের ইভেন্টে আমাকে নামতেই হতো।’’
প্রত্যাশার চাপও যে তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে, সেটিও প্রায় স্বীকার করেছেন নীরজ। মিডিয়া প্রতিনিধিদের বলেন, ‘‘সারা দেশ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। এত বড় দেশ, তার একটা চাপ থাকবেই। তবে এতে আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি বিপক্ষ থ্রোয়াররাও চেষ্টা করেছেন ভাল করার।’’