
শেষ আপডেট: 24 October 2023 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় বিষাণ সিং বেদী ও এরাপল্লী প্রসন্ন ছিলেন ভারতীয় স্পিনের জোড়া ফলা। দুই কিংবদন্তি স্পিনার অতীতে কত ম্যাচ জিতিয়েছেন, ইয়ত্তা নেই।
তাঁদের জুটি শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও ছিল দেখার মতো। অভিন্নহৃদয় বন্ধু বলতে যা বোঝায়, বেদী ও প্রসন্ন তাই ছিলেন। একে অপরের বাড়িতে নিয়মিত যেতেন। প্রসন্নর কলকাতার সল্টলেকের বাড়িতেও পা পড়েছে বেদীর। এমনকী প্রসন্ন বহুবার গিয়েছেন দিল্লিতে বেদীর বাড়িতে।
অশোক মালহোত্রা, অরুণ লালের মতোই প্রসন্নও ছিলেন কলকাতার জামাই। স্ত্রী বাঙালি পরিবারের। কলকাতায় শ্বশুরের সম্পত্তি পেয়েছেন প্রসন্ন। কিন্তু তাঁর আসল বাড়ি বেঙ্গালুরুর বেগমপেটে।
মঙ্গলবার সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অতীতের দিকপাল স্পিনার বলেছেন, ‘সোমবার আমার বেঙ্গালুরুর বাড়িতে পারিবারিক একটা অনুষ্ঠান ছিল। দুপুরে আমার এক ভাইপো ফোন করে জানায় বেদীর মৃত্যুর খবর। সেইসময় যেন মনে হল পায়ের তলা থেকে মাটিটা সরে গেল। আমাদের এতদিনের বন্ধুত্বের জুটি নষ্ট হয়ে গেল। তবে এটা বলতে পারি, আমি যে বিষাণের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি, এটা আমার কাছে বিরাট ব্যাপার।’’
প্রসন্ন আরও বলেছেন, ‘‘বিষাণের সঙ্গে ছয় মাস আগেও কথা হয়েছে। কিন্তু শেষ তিনটি মাস যে এত কষ্টে ছিল, সেটি একবারও জানতে পারিনি। ওঁর কাছে সেটাই আমার অভিমান। তাই বলছি, বন্ধু আমাকে একবার জানালি না রে। জানতে পারলে আমি তোর কাছে হাজির থেকে যথাসাধ্য করতাম ভাল করে তুলতে।’’
একসময় ভারতীয় দলের স্পিন চতুর্ভূজ বলতে বোঝাত বিষাণ সিং বেদী, এরাপল্লী প্রসন্ন, ভাগবৎ চন্দ্রশেখর ও শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবন। চারজনের মিলিত উইকেট সংখ্যা ৮৫৩।
প্রসন্ন জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের ওই চার বন্ধুর মধ্যে কোনও ইগো সমস্যা ছিল না। আমরা একে অপরকে ভালবাসতাম, শ্রদ্ধাও করতাম। তাই তো ভাবছি, বিষাণের মতো একটা ডাকাবুকো ছেলে কীরকম নিঃশব্দে উৎসবের আবহের মধ্যে চলে গেল। ভাবতেই মনটা ভেঙে পড়ছে।’’