
শেষ আপডেট: 10 July 2018 19:55
অরুণাভ কর, সেন্ট পিটার্সবার্গ[/caption]
রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম দুই আক্রমণাত্মক দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল সেন্ট পিটার্সবার্গের মাটিতে। খেলার আগে থেকেই গ্যালারি জুড়ে ছিল উন্মাদনা। শেষ হাসি হাসল ব্লু আর্মি। ১-০ গোলে রেড ডেভিলসদের হারিয়ে একযুগ পরে পৌঁছালো বিশ্বকাপের ফাইনালে।
লড়াই ছিল দু'দলের আক্রমণের। একদিকে এমব্যাপে, গ্রিজম্যান, পোগবার তরুণ ব্রিগেড। অন্যদিকে অ্যাজার, দি ব্রুইনা, লুকাকুর মতো দ্রুত গতির খেলোয়াড়। শুরু থেকেই আক্রমণের চেষ্টা করে দুই দল। কিন্তু প্রথম ২০ মিনিট খেলা ছিল বেলজিয়ামের দখলে। দু'প্রান্ত ধরে অ্যাজার ও চাডলি একের পর এক ক্রস তোলেন। কিছু সুযোগও এসেছিল। কিন্তু ভারানে, উমতিতির ডিফেন্স ছিল সজাগ। ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে ফ্রান্স। এমব্যাপের গতি ব্যবহার করে আক্রমণ তুলে আনতে থাকে। ৩৮ মিনিটের মাথায় পাবার্ডের শট পা দিয়ে বাঁচান কুর্তোয়া।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দরজা খোলার চেষ্টায় থাকে দুই দল। ৫১ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে ফার্স্ট পোস্টে এসে হেডে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। গোল খেয়ে শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন অ্যাজার, লুকাকুরা। কিন্তু মাঝমাঠে দুরন্ত খেললেন কান্তে। অ্যাজারকে ফাঁকা জায়গা দিলেন না। ফলে বেশিরভাগ আক্রমণই থেমে গেল বক্সের বাইরে। তার মধ্যেও দু-একটা সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। কিন্তু লরিস তেকাঠির নিচে হয়ে দাঁড়ালেন অপ্রতিরোধ্য। গোলের মুখ খুলতে পারল না বেলজিয়াম।
বেলজিয়ান কোচ মার্টিনেজকে নিজের পরিকল্পনায় টেক্কা দিলেন ফরাসী কোচ দেশঁ। এমব্যাপেকে উইংয়ে ব্যবহার করলেন তিনি। তাঁকে আটকাতে গিয়ে মাঝমাঠে গ্রিজম্যান, জিরুদের জায়গা দিয়ে দিল বেলজিয়ান ডিফেন্স। অন্যদিকে গোল খাওয়ার পর কোনও প্ল্যান বি দেখা গেল না মার্টিনেজের কাছে। একক দক্ষতায় অনেকবার চেষ্টা করলেও হার মানলেন অ্যাজার।
এই জয়ের ফলে ২০০৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ফ্রান্স। এখন থেকেই আইফেল টাওয়ারে বাজতে শুরু করেছে জয়ের বাজনা। স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। দেখছেন দিদিয়ের দেশঁ নিজেও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়ে ওঠার যিনি প্লেয়ার ও কোচ দুই ভূমিকাতেই পেয়েছেন বিশ্বকাপ।
https://youtu.be/Xr5x3NVo_KY