
শেষ আপডেট: 24 November 2023 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত কলকাতার নামী ক্রীড়া সাংবাদিক অরুণ সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে দূরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছিলেন। বারবার হাসপাতালে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। একটা সময় বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে অনেকদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী, কন্যা ও জামাতাকে। তিনি থাকতেন হুগলির কোন্নগরে।
অরুণ সেনগুপ্ত কিংবদন্তি সাংবাদিক ছিলেন। তিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করেছেন কৃতিত্বের সঙ্গে। ময়দানে ফুটবলার্স রিপোর্টার বলতে যদি কিছু বোঝায়, সেটি ছিলেন তিনি। একটা সময় আজকালে ছিলেন। সেখানে বহুদিন কাজ করার পরে সংবাদ প্রতিদিনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে যোগ দেন।
ময়দানের বর্তমান ও প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলতেন তিনি। কত যে এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট তাঁর হাত থেকে বেরিয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। তিনি সর্বভারতীয় সব ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট কৃতিত্বের সঙ্গে কভার করেছেন।
একটা সময় সন্তোষ ট্রফি থেকে ফুটবলারদের দলবদল হতো, কর্তারা গিয়ে ফুটবলার রিক্রুট করতেন। সেই আসরে হাজির থেকে অরুণবাবু বহু জনপ্রিয় রিপোর্ট করে নজর কেড়েছিলেন। তিনি আইএম বিজয়নের ফুটবল অ্যাকাডেমির খবরেও সকলকে টেক্কা দিয়েছিলেন। আজকালের সেরা স্পোর্টস বিভাগের তিনিও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বিজয়ন, বাইচুংয়ের কাছের সাংবাদিক ছিলেন তিনি। বিজয়ন তাঁকে মিল্লা বলে ডাকতেন।
অরুণ সেনগুপ্তকে সদ্য ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাদের ১০৪ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে পুষ্পেন সরকার মেমোরিয়াল বিশিষ্ট সাংবাদিক সম্মানে সম্মানিত করেছিল। সেদিন অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি পুরস্কার নিতে হাজির ছিলেন। তিনি অবসর নেওয়ার পরে নিয়মিত লিখতেন ইস্টবেঙ্গল সমাচার পত্রিকায়।
অরুণ সেনগুপ্ত ভবানীপুর ক্লাবের একটা সময় শীর্ষ কর্তাও ছিলেন। শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়দানের ভবানীপুর তাঁবুতে। সেখানে শ্রদ্ধা জানান ক্লাবের কর্ণধার তথা মোহনবাগানের প্রাক্তন সচিব সৃঞ্জয় বসু ছাড়াও বিষ্ণু চক্রবর্তী, সঞ্জয় (বাপ্পা) ঘোষরা। এমনকী সকালে ক্লাবে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, ছিলেন ভবানীপুর দলের কোচ রঞ্জন চৌধুরীও। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবেও।