
শেষ আপডেট: 7 November 2023 23:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অতি বড় অস্ট্রেলিয়া সমর্থকও কি ভেবেছিলেন যে, আফগানিস্তানকে তাঁরা হারিয়ে দিতে পারবেন! হয়ত না। তবে একজন ভেবেছিলেন। তিনি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আর একজন সেই বিশ্বাসকে মর্যাদা দিয়ে তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন। তিনি প্যাট কামিন্স। আর এই জুটির মরণপণ লড়াইয়েই শেষ অবধি হারের মুখ থেকে জিতে ফিরল অস্ট্রেলিয়া। সঙ্গে জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে।
আফগানিস্তানের বোলারদের সামনে ওয়াংখেড়েতে রীতিমতো অসহায় লাগছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় ক্রমশ খাদের কিনারে পৌঁছে যাচ্ছিল দল। টার্গেট যেখানে ২৯২ রান, সেখানে মাত্র ৯১ রানেই ৭ উইকেট পড়ে গিয়েছিল তাঁদের। ম্যাচ সেখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তেমনটা হয়ত ভাবেননি ম্যাক্সওয়েল। সেমিতে পৌঁছনোর জন্য এই ম্যাচটা ছিল মরণ-বাঁচন। আর তাই সেখানেই অতিমানবীয় রূপ ধারণ করলেন তিনি।
দলকে জেতানোর তাগিদ এতটাই ছিল যে, ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে এক পায়ে চোট লাগার পরেও মাঠ ছাড়েননি। বরং সেই ব্যথা নিয়েই, খোঁড়াতে খোঁড়াতে ব্যাট করে গেলেন টার্গেটে না পৌঁছনো পর্যন্ত। আর উল্টোদিকে সেই ম্যাক্সওয়েলকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলার প্যাট কামিন্স। দলের অবস্থা এমনই ছিল যে, আরও উইকেট পড়লেই সব প্রায় শেষ! ম্যাক্সের এই লড়াইয়ের কোনও মর্যাদাই থাকত না। তাই পরিস্থিতি বুঝে টিকে থাকলেন কামিন্সও।
কামিন্সকে সঙ্গে নিয়েই শেষ পর্যন্ত এক পায়ে খুঁড়িয়ে এবং ব্যাট হাতে যুদ্ধ চালালেন ম্যাক্সওয়েল। আর কামিন্সও সুযোগ বুঝে কখনও স্ট্রাইকিংয়ে, আর বেশিরভাগ সময় নন স্ট্রাইকিংয়ে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন। তাই আজকের এই ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব যতটা ম্যাক্সের, ঠিক ততটাই কামিন্সেরও। একজন আগুনের মতো জ্বললেন, আর দ্বিতীয়জন বরফের মতো শীতল মস্তিষ্ক নিয়ে টিকে থাকলেন শেষ অবধি। এই দু’জনের জান কবুল লড়াইয়েই হারতে বসা ম্যাচ জিতে গেল অস্ট্রেলিয়া।