
পাতাললোক সিজন ২।
শেষ আপডেট: 17 January 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন লকডাউনের সময়। উদয়াস্ত ঘরে বন্দি থেকে মানুষ যখন প্রবল বোর হচ্ছে, ওটিটিতে পাতাললোকের (Patallpk Season 1) রিলিজ ছিল যেন আশীর্বাদ। খোলা হাওয়ার মতো। টানটান রহস্য গল্প। নির্মেদ। উপরি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুই চরিত্রে থাকায় অনেক বাঙালিরই বেশ ভাল লাগছিল।
তবে পাতাললোকের হিরো একজনই। জয়দীপ আহলাওয়াতের (Jaideep Ahlawat) দুরন্ত অভিনয় নিয়ে ধন্য ধন্য পড়ে গেছিল সমাজমাধ্যমে। দর্শক টানার জন্য সেই সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো ছিল একটু বেশিই সাহসী। কথায় কথায়, কাঁচা গালমন্দ, খুনোখুনি। তবে পাতাললোক সিজন টু-এ (Patallok Season 2), সুদীপ শর্মা ও অভিনাশ অরুণ যেন একটু সংযত হয়েছেন। অযথা রক্তপাত কমিয়ে, গল্পের আকর্ষণকে ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা করেছেন। অবশ্য প্রথম কয়েক মিনিটেই একটি মুণ্ডকাটা মৃতদেহ সামনে হাজির হবে— যেটা বেশ শকিং।
সিজন টু-র গল্প প্রথম সিজনের থেকে আলাদা হলেও কিছু পরিচিত চরিত্র ফিরে এসেছে—ইনস্পেক্টর হাতি রাম চৌধুরী (জয়দীপ আহলাওয়াত), অফিসার আনসারি (ইশওয়াক সিং), এসএইচও বীরক (অনুরাগ অরোরা), এবং হাতি রামের পরিবার। আনসারি এখন আইপিএস অফিসার, আর হাতি রাম তার পুরনো থানায় এক নিখোঁজ ব্যান্ড বাজাওয়ালার সন্ধানে ব্যস্ত। ঘটনাচক্রে, নাগাল্যান্ডের এক হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি জনাথন থমের হত্যাকাণ্ড ও হাতি রামের কেস পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। আনসারি ও হাতি রাম জুটি আবার একসাথে কাজ করতে শুরু করেন। এবার তাঁরা নাগাল্যান্ড পৌঁছে যান একাধিক রহস্য সমাধানের জন্য।
প্রথম সিজনের মতোই এই সিজনেও একের পর এক খুন ঘটে। কিন্তু গল্প যত এগোয়, রহস্য ততই ঘনীভূত হয়। হাতি রামের স্মৃতিও হাতির মতই। যাকে বলা যায়, এলিফ্যান্টাইন মেমোরি। সেই স্মৃতিশক্তি ও মনোবলই তাঁকে সত্যের নাগাল পেতে সাহায্য করে। প্রথম সিজনের মতো ক্রমশ এই সিজনেও মনে হতে পারে যে মর্ত্যভূমে থাকা মানুষের কাছে স্বর্গলোক আর পাতাললোকের মধ্যে পার্থক্য ধীরেধীরে ধূসর হয়ে যাচ্ছে।
পাতাল লোক সিজন ওয়ানে হিন্দিবলয়ের শ্রেণি-বিভাজন দেখানো হয়েছিল। জাতপাত দীর্ণ হিন্দিবলয়ের সমাজজীবন, নিম্নবর্ণের প্রতি উচ্চবর্ণের আচরণ ও মনোভাব নিঁখুত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন পরিচালক। সিজন টু নিয়ে যাচ্ছে নাগাল্যান্ডে। এই সিজনে ভিতর-বাইরের দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে। হাতি রামের মতোই সাধারণ দর্শকরা, যাঁরা হয়তো ভারতের এই অংশ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না, তাঁদের কাছে এই গল্পটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। নাগাল্যান্ডের সামাজিক-রাজনৈতিক জটিলতাকে নির্মাতারা অত্যন্ত যত্নসহকারে তুলে ধরেছেন।
নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ বনানী ও শান্ত আবহের মধ্য দিয়ে আপনি শুধু গল্প নয়, এই রাজ্যের এক টুকরো বাস্তব ছবিটা দেখতে পাবেন। শুধু তা নয়, উত্তর-পূর্বের অভিনেতারাও দারুণ অভিনয় করেছেন। রোজ লিজোর চরিত্রে মেরেনলা ইমসঙের, বা কেনের চরিত্রে জাহ্নু বড়ুয়া অসামান্য।
পাতাললোক প্রথম সিজনের মতোই জয়দীপ আহলাওয়াতের অভিনয় এই সিজনেরও প্রাণ। প্রথম সিজনের মতো এখানেও তিনি হাতি রামের চরিত্রকে অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ইশওয়াক সিং-এর আনসারি চরিত্রটিও অত্যন্ত মাপা। তিলোত্তমা সোমের নতুন চরিত্র এসপি মেঘনা বড়ুয়া অত্যন্ত দাপুটে অভিনয় করেছেন। একজন মা ও দক্ষ পুলিশ অফিসারের দ্বৈত চরিত্রে তাঁর পারফরম্যান্স অনবদ্য।
নির্মাতারা যেমন গল্পের মাধুর্য ধরে রেখেছেন, তেমনি নতুন বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। নাগাল্যান্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক-রাজনৈতিক বিভাজনের মতো সংবেদনশীল বিষয় এই সিরিজকে গভীরতর করেছে।
পাতাল লোক সিজন টু প্রথম সিজনের মতো নয়। বরং নতুন আঙ্গিকে এক পৃথক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের অবহেলিত বিষয়গুলি সাহসীভাবে দেখানোরও চেষ্টা হয়েছে সিরিজে। যাঁরা প্রথম সিজন পছন্দ করেছিলেন, তাঁদের সিজন-টুও ভাল লাগবে বলে আশা করা যায়।