
শেষ আপডেট: 28 November 2023 15:41
চলতি বছর শেষ হতে আর এক মাসের কিছু বেশি বাকি। আগামী বছর গঙ্গার নীচ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম রেল যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। তার আগে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শিয়ালদহ-রানাঘাট লাইনে লোকাল ট্রেনে কিছু এয়ার কন্ডিশনড কোচ থাকবে বলে পূর্ব রেল জানিয়েছে।
নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল খবর। কলকাতার প্রথম মেট্রো রেলের সব ক’টি কামরাই এখন বাতানকুল। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো পরিষেবায় শুরু থেকেই সব কোচ এয়ার কন্ডিশনড। কলকাতায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বেশ কিছু এয়ার কন্ডিশনড বাস চলে। সেগুলির চাহিদা বেশ ভাল। অর্থাৎ শহরের বহু নাগরিক একটু বেশি পয়য়া খরচ করে আরামে স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে আগ্রহী।
বলা চলে পূর্ব রেল এই প্রত্যাশায় নয়া মাত্রা যোগ করতে চলেছে। ব্যস্ত সময়ে ভিড় কামরার অস্বস্তিকর যাত্রা থেকে রেহাই পেতে অনেকেই এসি কামরা বেছে নেবেন। অবশ্য সকলের প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না তা নির্ভর করবে রেল কতগুলি বাতানকুল কোচ সরবরাহ করতে পারে তার উপর। কিছু মানুষ নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করেন, সব কামরাই এসি হোক।
ভাবনা, প্রত্যাশার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নে তোলা চলে না। তবু জনস্বার্থে কিছু প্রশ্নের অবতারণা জরুরি। যেমন এসি কোচগুলিতে ভ্রমণের জন্য টিকিটের যে দাম ধার্য করা হয়েছে তা অনেকেরই সাধ্যের বাইরে। লোকাল ট্রেনে রেল ৬৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয়। প্রতিটি টিকিটের পিছনে রেলের এই সংক্রান্ত ঘোষণা লেখা থাকে। তারপরও যে ভাড়া গুণতে হয় তা অনেকেরই সাধ্যের বাইরে। তবু মানুষকে পথেঘাটে বের হতে হয়। পাঁচ-দশ কিলো মিটার পথ যেতে ট্রেনের বিকল্প নেই। ফলে গরিব-মধ্যবিত্তের কাছে পথেঘাটে ট্রেনই পরম বন্ধু। এই শ্রেণির যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে লোকাল ট্রেনে এসি কামরার সংখ্যা নির্ধারণ করা জরুরি। বেশিরভাগ কোচ নন-এসি থাকাই বাঞ্ছনীয়।
আরও একটি অস্বস্তিকর বিষয়ে এই অবকাশে আলোচনা জরুরি। ভারতীয় রেল তাদের মোটো বা লক্ষ্য হিসাবে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করে—সময়ানুবর্তিতা, সুরক্ষা, স্বাচ্ছন্দ্য। এরমধ্যে সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। ট্রেন যদি সময়ে গন্তব্যে না পৌঁছায় তাহলে বিলম্বের পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যও মাটি হয়ে যায়। সব কামরা এসি হলেও রেল চলাচলে লেট লতিফ সংস্কৃতি দূর না হলে স্বাচ্ছন্দ্য বলে কিছু থাকবে না।
শিয়ালদহ ডিভিশনে দক্ষিণ শাখায় ট্রেন চলাচল একটা সময় নানা বাস্তব সমস্যার কারণে খুবই বিঘ্নিত হত। এখন সেই সমস্যা ওই শাখা কাটিয়ে উঠেছে। তুলনামূলকভাবে শিয়ালদল মেন ও উত্তর শাখায় ট্রেন চলাচলে সময়ের ঠিক নেই। ব্যস্ত সময়ে বহু ট্রেন বিলম্বে চলে। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ছাড়ার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। লোকাল ট্রেনে এসি কোচ চালুর সময় রেল কর্তৃপক্ষ এই দিকটিতে নজর দিলে ভাল হবে।