হিংস্র দাঁত, সমুদ্রের ভয়ঙ্কর প্রাণী বলে যার দুর্নাম রয়েছে বিশ্বজোড়া। এমনই এক জলজীবের নাম হাঙর।

এক বিরল হাঙরের দেখা মিলল, যার গায়ের রঙ অদ্ভুত উজ্জ্বল কমলা রঙের।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘নাম তার কমলা’। না, না রবীন্দ্রনাথের ‘ক্যামেলিয়া’ কবিতার সেই মিস্টিক প্রেম নেই তার জীবনে। উল্টে বরং রয়েছে, হিংস্র দাঁত, সমুদ্রের ভয়ঙ্কর প্রাণী বলে যার দুর্নাম রয়েছে বিশ্বজোড়া। এমনই এক জলজীবের নাম হাঙর। তরুণ সাংবাদিক টিনটিনের রহস্য-অ্যাডভেঞ্চারের কমিকসেরও নামও রয়েছে লোহিত সাগরের হাঙরের নামে। কিন্তু, এবার এমন এক বিরল হাঙরের দেখা মিলল, যার গায়ের রঙ অদ্ভুত উজ্জ্বল কমলা রঙের। আর শ্বেতনয়না। দেখে মনে হবে, বড়সড় আকারে গোল্ড ফিশ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা একেবারেই বিরল।
প্রকৃতির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে মানুষকে চমৎকারে ভরিয়ে দেওয়া গোপন সব রহস্য। অনুসন্ধানী চোখই পারে তাকে খুঁজে বের করতে। তাই বিরল ও এরকম প্রজাতির মাত্র একটিই হাঙরের দেখা মিলেছে যার গায়ের রঙ উজ্জ্বল কমলা। কোস্টারিকার তোর্তুগ্যুয়েরো জাতীয় উদ্যানে শখের মৎস্যশিকারীদের জালে এই ‘কমলা সুন্দরী’ গতবছর ধরা পড়ে।
দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এটাই প্রথম হাঙর, যার গায়ের রং সম্পূর্ণ আলাদা রকমের উজ্জ্বল। তাঁদের এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘মেরিন বায়োলজি’ নামে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গতবছর একটি পর্যটন সংস্থা, যারা পর্যটকদের জন্য শখের মাছ ধরার ব্যবস্থা করে থাকে। এটিকে সমুদ্রের ৩৭ মিটার নীচে এবং ৩১.২ ডিগ্রি তাপমাত্রার স্তর থেকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে এই কমলা হাঙরের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয় সংস্থার ফেসবুক পেজে।
কমলা রঙের রহস্য হিসেবে সমুদ্রপ্রাণ নিয়ে গবেষকরা বের করেছেন, এটি একটি কারণে নয়, দুটি বিরল জিনগত কারণের জন্য হয়েছে। একে albinism এবং xanthism-এর (যাকে xanthochroism-ও বলে) মিলনের ফল বলে মনে করছেন তাঁরা। এ কারণেই হাঙরটির melanin-এ প্রভাব ঘটিয়েছে। মেলানিনের ফলে দেহের ত্বক ও চুলের রংয়ের পরিবর্তন ঘটে। যা নির্ভর করে মূলত বংশানুক্রমিক জিনগত এবং যে জলবায়ু অঞ্চলে বংশপরম্পরায় বসবাস করা হয়েছে, তার উপর।
Xanthism-কে পশুরাজ্যের মধ্যে সবথেকে বিরল ঘটনা বলে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন। এর আগে কিছু মাছ, সরীসৃপ এবং পাখির মধ্যে তা দেখা গিয়েছে। কিন্তু, ক্যারিবিয়ান এলাকায় এরকম তরুণাস্থি যুক্ত মাছ প্রজাতির মধ্যে এটাই প্রথম নমুনা। যদিও গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আরও পরীক্ষানিরীক্ষা করে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসতে পারে ভবিষ্যতে।