
দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায় ও পেছনে শিল্পী অমিত ভরের আঁকা ছবি
শেষ আপডেট: 18 January 2025 19:57
আরজি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে শিয়ালদহ আদালত। শনিবারের বার বেলায় আদালত ভবনের তিনতলার ২১০ নম্বর কক্ষে যখন বিচারপতি অনির্বাণ দাস সঞ্জয়ের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান, তখনই চিৎকার করতে শুরু করে সঞ্জয়।
ঘটনা হল, এদিন বিচারপতি সঞ্জয়ের উদ্দেশে জানান, চার্জশিটে আপনাকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬, ১০৩(১) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ধারাতেই চার্জগঠন করা হয়েছে। যে সাক্ষীদের জেরা করা হয়েছে আর সিবিআইয়ের তরফে যা যা নথি-তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতেই আপনি অপরাধী। আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। ঠিক এর পরপরই সঞ্জয় বলতে থাকে তিনি নির্দোষ। ফাঁসানো হয়েছে তাকে। তার দাবি ওখানে (সেমিনার রুমে) সে কিছু করলে তার গলার রুদ্রাক্ষের মালা ছিঁড়ে পড়ে যেত।
১২ মিনিটের রায় ঘোষণা পর্বে সিভিকের এই দাবি নিয়েই এখন চর্চার মধ্যমণি রুদ্রাক্ষের মালা। কী এই রুদ্রাক্ষ। পৌরাণিক ব্যাখ্যাই বা কী?
বলা হয় যে একবার পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীদের মঙ্গল কামনায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন মহাদেব। ধ্যানভঙ্গ হওয়ার পরে তার চোখের জল মাটিতে ঝরে পড়ে। সেই জল থেকেই জন্ম হয় রুদ্রাক্ষ গাছের। রুদ্রাক্ষ অর্থাৎ রুদ্র বা শিব এবং অক্ষ মানে চোখ বা চক্ষুজল। তাই বলা হয় যে মহাদেবের চোখ থেকে ঝরে পড়া অশ্রুবিন্দুই হল রুদ্রাক্ষ।
অন্য গল্প হল, ত্রিপুরাসুর পুরী ধ্বংস করার সময় অঘোরাস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। অসীম শক্তিশালী এই অস্ত্রটি ব্যবহারের ফলে প্রাণীজগতে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসে। মহাদেব যখন তা প্রত্যক্ষ করে ব্যথিত হন, চোখে জল চলে আসে। সেই জল যেখানে পড়েছিল সেখান থেকেই জন্ম হয় রুদ্রাক্ষ বৃক্ষের।
মহাদেবের হাতে-গলায় থাকা রদ্রাক্ষ স্বচ্ছতার মূর্ত রূপ বটে। কিন্তু আরজি করের ধর্ষণ খুনে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে সেই মানে কতটা অর্থবহ, সেটাই আলোচনার। আলোচনার বিষয় এটাও যে সোমবার সঞ্জয়ের কথা শোনা হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।