
ছবিটি এআই দ্বারা নির্মিত (দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 17 January 2025 19:14
যৌন চাহিদা মিটছে না ৫৫ শতাংশ ভারতীয়র। এমনই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল সম্প্রতি। 'মাই মিউস' নামের একটি সংস্থার তরফে 'লেইড ইন ইন্ডিয়া ২০২৫' নামের এক সমীক্ষা করা হয়। তা থেকেই সামনে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
বিবাহিত, অবিবাহিত, প্রেমে রয়েছেন, এমন সকলের ওপর এই সমীক্ষা করা হয়। বেশিরভাগ ভারতীয়ই জানান, তাঁরা সঙ্গমে সন্তুষ্ট নন।
অবাক করা বিষয় হল, এই সমীক্ষায় ৫৯ শতাংশ বিবাহিত মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা সঙ্গীর সঙ্গে একই ছাদের তলায় থাকলেও সঙ্গমে অসন্তুষ্ট। এক্ষেত্রে মহিলাদের এই সমস্যা পুরুষদের থেকে অনেকটা বেশি। ৬০ শতাংশ মহিলাই যৌন সম্পর্কে খুশি নন। যার ফলে সম্পর্কেও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এবিষয়ে 'দ্য ওয়াল'-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল লাইফ কোচ ঐন্দ্রিলা চ্যাটার্জির সঙ্গে। তিনি মহিলাদের অসন্তুষ্টির বিষয়টি নিয়ে জানান, সমাজের একটা অংশ এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। ট্যাবু রয়েছে যৌনতা নিয়ে, শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে। সচেতন হওয়া বাকি আছে। বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা সঙ্গমে সন্তুষ্ট না হলে বলতে পারেন না সঙ্গীকে। এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তে শুরু করে। অনেকেই কাউন্সেলিংয়ে এসে এমন কথা প্রকাশ করেন। আসলে পড়াশোনা দরকার। চিন্তাভাবনা পাল্টানো দরকার।
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই তো সঙ্গমে আর কোনও বাধা নেই। অনেকেই এই বিষয় মাথায় রেখে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তারপরও এমন সমীক্ষার রিপোর্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।
ঠিক কী কারণে দাম্পত্য জীবনে এমন সমস্যা হচ্ছে?
লাইফ কোচ ঐন্দ্রিলা বলেন, 'আমার কাছে এমন সমস্যা নিয়ে অনেকেই আসেন। ম্যারেজ কাউন্সেলিংয়ে বিশেষত। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, বেশিরভাগই স্ট্রেসে ভুগছেন। জীবন নিয়ে খুবই চাপে। এত জীবন নিয়ে ব্যস্ততা, অফিস নিয়ে ব্যস্ত, যে নিজেদের দিকে তাকানোর সময় নেই। স্ট্রেস আসলে একটা বিরাট কারণ। এই যে দৈহিক চাহিদা। যখন কেউ কাউকে জিজ্ঞাসা করছেন, আর ইউ হ্যাপি অর্থাৎ সঙ্গী খুশি কি না। কেউ কোনও উত্তর দিতে পারছেন না। কারণ তাঁরা নিজেরাই জানেন না কোন পর্যায় পর্যন্ত গেলে তাকে খুশি হওয়া বলে। অর্থাৎ তাঁদের কাছে খুশি হওয়ায় যে একটা সীমা বা লক্ষ্য, সেটাই ঠিক মতো স্থির করা নেই।'
শরীর ছাপিয়ে মন যখন গুরুত্বপূর্ণ
লাইফ কোচের কথায়, 'শুধুমাত্র দু'টো শরীর এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। দু'টো মনও তো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে। কখনও কখনও মানসিকভাবে কেউ ঘনিষ্ঠ হন, কখনও শুধু শারীরিক চাহিদার জন্য। এই দুইয়ে গড়মিল হলে সমস্যা হতে পারে। স্ট্রেসের জন্য গড়মিল হয়ও।'
সময়ের গুরুত্ব
শারীরিকভাবে দূরত্ব তৈরি হওয়া বা সঙ্গমে অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে সময়কে উল্লেখ করেছেন লাইফ কোচ। তাঁর কথায়, 'আজকাল আমাদের কাছে সময়ই নেই। সারাদিন টেনশন। প্রচুর কাজ, তার ফলে ক্লান্তি। পরেরদিন কী কাজ করব সেটার চাপ। সেগুলো মাথায় ঘোরে। এর জন্য অ্যাংজাইটি তৈরি হয়। সেটা থেকে অসন্তুষ্টি। আবার কারও পার্টনার হয়তো কাজের জন্য শহরের বাইরে থাকেন। তাঁদের দেখাই হয় না। কারও হয়তো সঙ্গীর সঙ্গে শিফট ম্যাচ করে না। ফলে শুধু উইকেন্ডে দেখা হয়। এই প্রত্যেকটা জিনিসের প্রভাব পড়ে শারীরিক সম্পর্কের ওপর।'
প্রাইভেসি ম্যাটার্স
প্রাইভেসি একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লাইফ কোচ বলছেন, 'শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রাইভেসি নষ্ট হয় অনেকেরই। নিজেদের জন্য সময় বের করতে পারেন না নতুন জায়গায়। একসঙ্গে ছোট জায়গায় অনেকে মিলে থাকলে নিজেদের মতো করে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারেন না। ফলে সমস্যা হয়। এর থেকেও দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। এই যে প্রাইভেসি দরকার, এটা অনেকেই বোঝেন না। একসঙ্গে আছি মানেই আর কিছুর দরকার নেই। এটা ধরে নেন। তাতে সমস্যা হয়। যৌন মিলন নিয়ে বহু মানুষেরই জ্ঞান ও পড়াশোনা ভীষণ কম। অনেকেই জানেন না কোন পর্যায় গেলে সেটাকে সন্তুষ্টি বলা হয়। তাই পড়াশোনা দরকারই।'
এছাড়াও ফিসিওলজিক্যাল কোনও সমস্যা থাকলেও এই অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছেন লাইফ কোচ। সেক্ষেত্রে সেটা আগে থেকে বুঝতে হবে। সমস্যাটা কোথায় বুঝে নিতে হবে। তারপর কোনও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের পথ বের করতে হবে।