
শেষ আপডেট: 12 December 2019 18:30
দীপকাকু যেমনটা চেয়েছিলেন, তদন্ত এগোচ্ছে সেইভাবেই। আজ দুপুরে রেল পুলিশের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার জহর সাহা ডা. অলকেশ রায়ের বাসস্থান সার্চ করতে এসেছেন, সঙ্গে ঝিনুক আর দীপকাকু। সার্চের অর্ডার জোগাড় করতে তিনদিন লেগেছে। অর্ডার বার করার প্রধান শর্ত ছিল, ডা. রায়ের রক্ত সম্পর্কিত কোনও আত্মীয়কে জিআরপি–তে কমপ্লেন করতে হবে এই মর্মে, আমার আপনজনের ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টটা বেশ রহস্যজনক। আরও খতিয়ে তদন্ত করা হোক।
পরিস্থিতি বিচার করে দীপকাকু বুঝেছিলেন ডাক্তারবাবুর দুই ভাই কোনও কমপ্লেন দায়ের করবেন না। ঝিনুক ভাবতে বসেছিল তা হলে কাকে দিয়ে কমপ্লেন লেখাবেন দীপকাকু? ডা. রায়ের ছেলে সায়নও যে নিরুদ্দেশ। আর একজন ব্লাড রিলেটেডের কথা একেবারে মাথায় আসেনি ঝিনুকের। দীপকাকুর এসে গিয়েছিল জহর সাহার সামনে বসেই। তখনই তাঁর কথা উল্লেখ করেননি এই কারণে, যদি সেই মানুষটি কমপ্লেন করতে রাজি না হন! মানুষটির সঙ্গে কথা না বলে দীপকাকু নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। অফিসার সাহার সঙ্গে কথাবার্তা সেরে দীপকাকু যখন জিআরপি থানার বাইরে এলেন, নিজের মোটর বাইকের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ফোনে ধরেছিলেন ডা. রায়ের কম্পাউন্ডার তাপস কুণ্ডুকে। ডা. রায়ের বোনের ফোন নাম্বার চাইলেন। উনি কোথায় থাকেন, জেনে নিলেন সেটাও।
ঝিনুকের মনে হয়েছিল তাই তো, ডাক্তার রায়ের বোনের কথা তার মাথায় আসেনি একবারও! নিজের বোন মানে রক্ত সম্পর্কিত। আইনত কমপ্লেন করতে পারেন।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তাপস কুণ্ডু ডা. রায়ের বোনের নাম, ফোন নাম্বার, ঠিকানা এসএমএস করে দীপকাকুর মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ফাঁকে দীপকাকু একটা সিগারেট শেষ করেন। দাঁড়িয়েছিলেন থানার বাইরে, নিজের মোটরবাইকের পাশে। মুড ছিল খুব সিরিয়াস। হয়তো টেনশনে ছিলেন এই ভেবে যে, ডাক্তারবাবুর বোন আদৌ রাজি হবেন তো কমপ্লেন করতে?
তাপস কুণ্ডুর থেকে এসএমএস পেয়েই ভদ্রমহিলাকে ফোন করেছিলেন দীপকাকু। নিজের পরিচয় দেওয়ার পর বলেছিলেন, আপনার বড়দা অলকেশ রায় আমাকে একটা অ্যাসাইমেন্ট দিয়েছিলেন। কাজটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রয়াত হলেন উনি। ওই তদন্তের ব্যাপারেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলতে চাই। আপনি যদি প্লিজ আমায় একটু সময় দেন!
ভদ্রমহিলা তখনই চলে আসতে বলেছিলেন ওঁর বাড়িতে। বাড়ি পাইকপাড়ায়। মহিলার নাম শ্রাবণী গুপ্ত। ঝিনুককে নিয়ে দীপকাকু রওনা দিয়েছিলেন। দীপকাকুর পৈতৃক বাড়ি মেদিনীপুরে। কলেজ শেষ করে কলকাতায় এসেছিলেন। অথচ কলকাতার রাস্তাঘাট এত ভালোভাবে চেনেন, মনে হবে জন্মাবধি এখানেই আছেন। শ্রাবণী দেবীর বাড়ি খুঁজে পেতেও কোনও সমস্যা হল না। প্রাচীন বাড়ি, নাম ‘গুপ্ত ভিলা’। শ্রাবণী দেবী সৌজন্য সহকারে দীপকাকু, ঝিনুককে বসিয়েছিলেন ওঁদের বৈঠকখানায়। বেশ স্নিগ্ধ অভিজাত দেখতে মহিলাকে। বয়স পঞ্চান্নর কাছাকাছি। দীপকাকুর গড়পরতা উচ্চতা, ইন না করে পরা শার্ট, আদ্যিকালের চশমার ফ্রেম দেখে শ্রাবণী দেবী বোধহয় খানিক দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। বলে উঠছিলেন, আপনি সত্যি গোয়েন্দা? আমি আসলে সত্যিকারের ডিটেকটিভ জীবনে এই প্রথম দেখছি।
কথা কেড়ে দীপকাকু বলেছিলেন, গোয়েন্দা সম্বন্ধে আপনার যা কিছু ধারণা, বই পড়ে এবং সিনেমা নাটক দেখে, তাই তো?
--একদম ঠিক বলেছেন। সায় দিয়েছিলেন শ্রাবণীদেবী।
দীপকাকু নিজের ভিজিটিং কার্ড বার করে শ্রাবণী গুপ্তকে দিয়েছিলেন। ঝিনুকের পরিচয় দিয়েছিলেন নিজের সহকারী হিসেবে। এই প্রথম একজন ঝিনুকের এই বিশেষ পরিচয়টা জেনে এতটুকু অবাক হলেন না। সম্ভবত ডিটেকটিভদের কাজটা নিয়েই ওঁর ধারণা খুব সীমিত। প্রাথমিক কথাবার্তা শেষ হতে না হতেই ভিতর বাড়ি থেকে এসে আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন শ্রাবণীদেবীর হাজবেন্ড প্রবীর গুপ্ত। দীপকাকু খুব তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। শ্রাবণীদেবীকে বলেছিলেন, আপনার বড়দা তাঁর নিরুদ্দেশ ছেলের খোঁজে আমাকে নিয়োগ করেছিলেন। কাজে নেমে আমি যখন কিছু আশাপ্রদ ফল পাচ্ছি, ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলেন ডাক্তারবাবু। এই মৃত্যুটাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে অসুবিধে হচ্ছে আমার। কেন জানি মনে হচ্ছে, কোনও একজন অথবা একাধিক লোক চায় না আপনার বড়দার সঙ্গে তাঁর সন্তানের দেখা হোক। না চাওয়ার কারণ হচ্ছে সম্পত্তি। ডাক্তারবাবু কেন সায়নের সঙ্গে দেখা করতে চান, তা আমাকে বলেননি। তবু আন্দাজ করতে অসুবিধে হয় না, নিজের সম্পত্তি ফেরার হয়ে থাকা ছেলেকে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেই কাজে যাতে সফল না হতে পারেন, তার জন্যই ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টটা সংঘটিত হয়েছে। এই ধারণাটা আমার আরও দৃঢ় হয়েছে আপনার দাদার ড্রাইভার নন্দ গড়াইয়ের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না দেখে। মৃত্যুর সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তার সব চেয়ে বড় সাক্ষী নন্দ গড়াই। গাড়ি নিয়ে সে ছিল দুর্ঘটনাস্থলের খুব কাছে।
এতদূর বলে থেমেছিলেন দীপকাকু। ঝিনুক খেয়াল করেছিল কিছু তথ্য দীপকাকু গোপন করে যাচ্ছেন। খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্য, ডাক্তারবাবুর সঙ্গে তাঁর ছেলের দেখা হয়েছিল ‘রিলাইফ’ হাসপাতালের লাউঞ্জে, এ কথাটা বেমালুম চেপে গেলেন। কেন বলেননি, ঝিনুক জিজ্ঞাসা করেছিল শ্রাবণী দেবীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে। দীপকাকু বলেছিলেন, কাজ হাসিলের জন্য যতটুকু বলার দরকার, ততটাই বলেছি।
প্রথম দফার কথা শেষ হতে চা-বিস্কিট নিয়ে এসেছিল শ্রাবনীদেবীর কাজের মহিলা। চা পর্ব মিটতে দীপকাকু ফের বলতে থাকেন, ডাক্তারবাবুর মৃত্যুর পর আমি তদন্ত স্থগিত রাখতে পারতাম। কিন্তু আমার বিবেক সেটা করতে দিল না। ডা. রায়ের সঙ্গে আমার যে সামান্য আলাপ হয়েছি তাতেই বুঝেছিলাম খুবই ভালো মনের মানুষ। উনি এ ভাবে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে মারা যাবেন, এটা মেনে নিতে পারছি না।
শ্রাবণীদেবীর হাজবেন্ড প্রবীরবাবু তখন বলেছিলেন, ট্রেন অ্যাক্সিডেন্ট ঘটিয়ে কাউকে মেরে ফেলা কি এতটাই সহজ? এর স্বপক্ষে আপনার কাছে সেরকম জোরাল কোনও আভাস বা ইঙ্গিত আছে কি? না কি গোটাটাই আপনার অনুমান?
এর উত্তরে দীপকাকু বলেন, অনুমানটাও তৈরি হয় কিছু যুক্তির উপর নির্ভর করে। সেই যুক্তি আমার আছে। সেটা ধরে আমি এগোতে পারছি না, কারণ মৃত্যুটাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে। রেল পুলিশ তেমনটাই রিপোর্ট দেবে কোর্টে। ডা. রায়ের দুই ভাইই সেটাই মেনে নেবেন। কেননা দাদার মৃত্যু নিয়ে তাঁদের মনে কোনও প্রশ্ন জাগেনি। যদি জাগত, তাঁরা রেলপুলিশকে বলতে পারতেন অ্যাক্সিডেন্টটা নিয়ে খতিয়ে তদন্ত হোক। আইনমাফিক রেলপুলিশকে শুনতে হত সে কথা। যেহেতু তাঁরা মৃতের রক্তর সম্পর্কের। আমি তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগাতে যাচ্ছি না এই অনুমানে, দু’জনের কেউ শুনবে না আমার পরামর্শ। কেননা, ডাক্তারবাবুর থেকে শুনেছি দুই ভাইয়ের পরিবার ওঁকে প্রায় নজরবন্দি অবস্থায় রেখেছে।
এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে সায় দিয়েছিলেন শ্রাবণীদেবী। বলেছিলেন, বড়দা একেবারে ঠিক কথাই বলেছে। গোটা বাড়ির লোক বড়দাকে চোখে চোখে রাখত। রীতিমতো কোণঠাসা করে রেখেছিল। কোনও ভাবেই দাদা যেন বাবলার সঙ্গে দেখা না করতে পারে। বাবলা হচ্ছে সায়নের ডাক নাম।
দীপকাকু বলেছিলেন, জানি।
ফের শ্রাবণীদেবী বলতে থাকেন, দোষ যদি বাবলা করে থাকে, তার শাস্তি বড়দাকে পেতে হবে কেন বলুন তো? বড়বউদিকেও অনেক গঞ্জনা শুনতে হয়েছে বাড়ির লোকের কাছে। সেই কষ্টেই বেচারি তাড়াতাড়ি চলে গেল পৃথিবী ছেড়ে। এখন দাদাও রইল না। বড়দাকে সত্যিই যদি প্ল্যান করে ট্রেনের মুখে ফেলা হয়ে থাকে সেটা প্রমাণ করার জন্য আমি আপনাকে কী ভাবে হেল্প করতে পারি?
দীপকাকু তখন জিআরপি–তে ব্লাড রিলেটেড আত্মীয়র কমপ্লেনের কথাটা গুছিয়ে বললেন। একই সঙ্গে জানালেন, উনি ডা. রায়ের বসবাসের জায়গাটা সরজমিনে দেখতে চান। সেটা দেখবেন রেলের তদন্ত অফিসারের সঙ্গে। যাঁর সঙ্গে দীপকাকুর এ ব্যাপারে কথা হয়ে আছে।
এই পয়েন্টে এসে প্রবীরবাবু জানতে চান, বড়দার ঘরে আপনি ঠিক কী ধরনের সূত্র খুঁজে পেতে চাইছেন?
দীপকাকু বলেছিলেন, এমন কোনও ক্লু খুঁজে পেতে চাইছি যার থেকে বোঝা যাবে ডাক্তারবাবুর মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির কোনও যোগাযোগ আছে কিনা? উপার্জিত অর্থ কোথায়, কী ভাবে রাখতেন? ব্যাঙ্কের পাস বই, যদি কোনও ফিক্সড ডিপোজিট থাকে, তার সার্টিফিকেট। শেয়ারে ইনভেস্ট করে থাকলে, সে সব পেপার্স কী অবস্থায় আছে দেখতে হবে। ছেলের নামে উইল করে রেখেছেন কি না, খুঁজতে হবে সেটাও। এগুলো দেখে ভালো করে বিচার করলেই আমরা বুঝতে পারব সায়নকে কতটা টাকা, কী ভাবে উনি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন? এরপর দেখতে হবে এই ব্যবস্থার কথা কে কে জানতে পেরেছিল? তাদের মধ্যে কোনও একজন অথবা দু’চারজন মিলে চায়নি সায়ন টাকাটা পাক। তাই ওই ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টের পরিকল্পনা। অবশ্য আমার অনুমান যে মিলবেই, এমন গ্যারান্টি দিতে পারছি না। তবে তদন্তটা চালানো উচিত এটা মনে করছি।
দীপকাকুর কথা মেনে নিয়েছিলেন শ্রাবণীদেবী। বলেছিলেন, নিশ্চয়ই তদন্ত হওয়া উচিত। বড়দার রোজগার তো কম ছিল না। কাঁচা টাকা আর পাবেন বলে মনে হয় না। মেজদা, ছোড়দা এতক্ষণে ভাগ করে নিয়েছে। ব্যাঙ্কের কাগজগুলো পেলেও পেতে পারেন। আপনার কথা মতো আমি অবশ্যই জিআরপি–তে মৃত্যুটা সন্দেহজনক বলে কমপ্লেন করব। কমপ্লেন লেখার সময় আপনি একটু সঙ্গে থাকবেন।
--নিশ্চয়ই থাকব। বলে সোফা ছেড়ে উঠতে যাচ্ছিলেন দীপকাকু। ফের বসে পড়ে বলেছিলেন, আচ্ছা, আমায় একটা কথা বলুন তো, আপনার বড়দার এই যে এত পেশেন্ট, এটা কত বছর ধরে চলছে? মানে, আমি আন্দাজ করার চেষ্টা করছি ডা. রায়ের কতটা পরিমাণ সম্পত্তি থাকতে পারে?
উত্তর দিতে একটু সময় নিয়েছিলেন শ্রাবণীদেবী। অতীত ঝালিয়ে নিতে নিতে বললেন, বড়দার পসার ধীরে ধীরেই বেড়েছে। লাস্ট দশ বছর তুঙ্গে উঠেছিল প্র্যাকটিস। আসলে বড়দা তিনটে রোগের ওষুধ দিত দারুণ। এক হচ্ছে, এপিলেপ্সি, দুই হাঁটুর যন্ত্রণা, তিন, শ্বাসকষ্ট। দূর দূর জেলা থেকে রুগিরা আসত বড়দাকে দেখাতে। যতদিন গেছে, নাম ছড়িয়ে পড়েছে বড়দার।
এই কথার পরই ঝিনুকরা বিদায় নিয়েছিল গুপ্তভিলা থেকে। গতকাল দীপকাকু শ্রাবণীদেবীকে নিয়ে গিয়েছিলেন শিয়ালদার জিআরপি থানায় কমপ্লেন করতে। প্রবীরবাবুও ছিলেন সঙ্গে। কমপ্লেনের বয়ান কী হবে বলে দিয়েছিলেন রেলের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার জহর সাহা। উনি সব চেয়ে ভাল জানেন কী ধরনের অভিযোগ করলে রেল পুলিশ আলাদা ভাবে তদন্ত করতে আগ্রহী হয়। কমপ্লেনে লেখা হয়েছে ‘‘আমার দাদা ওই রুটে কখনওই যাতায়াত করেন না। খতিয়ে দেখা হোক, কেন গিয়েছিলেন সেদিন? কেউ কি প্ল্যান করে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল? দাদার মধ্যে আত্মহত্যার কোনও লক্ষণ ছিল না। কেউ দাদাকে ট্রেনের আসার সময় রেলের ট্র্যাকে ঠেলে ফেলে দেয়নি তো? প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে অনুরোধ করছি।’’
আজ ঝিনুককে বাড়ি থেকে নিতে এসে বাবাকে এ সব কথা জানালেন দীপকাকু। বাবা বলেছিলেন, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই কেসটাতে তুমি অতিরিক্ত অনুমানের ভিত্তিতে এগোচ্ছে। যা প্রায় কল্পনার সামিল।
--একথা কেন বলছেন? অসন্তুষ্ট স্বরে জানতে চেয়েছিলেন দীপকাকু।
বাবা তখন বললেন, অন্য কোনও গাড়ি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মেরে কাউকে মেরে ফেলা সম্ভব। কিন্তু ট্রেন তো কারুর ইচ্ছে পালন করবে না। নিজের নিয়ম মেনে চলবে। তাতে যদি কারুর অ্যাক্সিডেন্ট হয়, সেটাকে দুর্ঘটনা ভাবা ছাড়া উপায়ন্তর থাকে না।
এর উত্তর যেন রেডিই ছিল দীপকাকুর কাছে। বলে উঠেছিলেন, আপনি যে ট্রেনের নিয়মের কথা বলছেন না। আমার ধারণা ওই নিয়মের জালেই ডাক্তারবাবুকে এনে ফেলা হয়েছিল। জালটা আবছা ভাবে হলেও আমি যেন দেখতে পাচ্ছি। কেন মেরে ফেলা হল ওঁকে, কে মারল, যখন বার করতে পারব তদন্তের মাধ্যমে, জালটা আপনিই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আসলে আততায়ী অত্যন্ত বুদ্ধিমান, অপরাধটা সে এমন ভাবে করেছে, যাতে কিছুতেই তাকে ধরা না যায়। তাকে ধরাটাই আমার চ্যালেঞ্জ।
বাবা আর কথা বাড়াননি। ওঁর আসল উদ্দেশ্য ছিল খোঁচা মেরে দীপকাকুর মুখ থেকে যদি এই কেসের ব্যাপারে আরও কিছু সূত্র বার করা যায়। দীপকাকু সবটা খোলসা করেন না। মাথার ভিতর অনেক ক্যালকুলেশন চলতে থাকে তাঁর। যেমন, ডা. রায়ের বাড়ি এসে দীপকাকু ঠিক কী খুঁজছেন, এখন অবধি বুঝে উঠতে পারেনি ঝিনুক। সে শুধু দীপকাকু আর মি. সাহার পিছন পিছন ঘুরে যাচ্ছে। সম্ভবত জহর সাহাও আঁচ করতে পারছেন না, দীপকাকু কোন সূত্রের সন্ধানে আছেন।
চিত্রকর: শুভ্রনীল ঘোষ পরের পর্ব আগামী শুক্রবার
রহস্য উপন্যাসের আগের পর্বগুলি পড়ার জন্য নীচের শব্দে ক্লিক করুন