
শেষ আপডেট: 15 October 2022 15:28
মহাকাশ আর প্রযুক্তি দুটোই টানত ছেলেটাকে, অল্প বয়স থেকেই। পড়াশোনা শেষ করে ঠিক করলেন যোগ দেবেন দেশের বিমান বাহিনীতে। দেশের সেবাও হবে, পূরণ হবে আকাশে ওড়ার আজন্মলালিত স্বপ্নও। মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্সেও অফিসার পোস্টে নিয়োগের কথাবার্তা চলছিল সেই সময়। সবদিক ভেবে দুটো ক্ষেত্রেই আবেদন করে বসলেন সেই যুবক। ইন্টারভিউয়ের ডাক এল দু জায়গা থেকেই। প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বে ভারতের দুই প্রান্তে দুই ইন্টারভিউ। ফল বেরোলে দেখা গেল এয়ারফোর্সের পরীক্ষায় অল্পের জন্য অকৃতকার্য হয়েছে সে ছেলে। কিছুটা মনখারাপ নিয়েই যোগ দিলেন মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্সের ডাইরেক্টর অব টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এন্ড প্রোডাকশনে। আজ সেই মানুষটাকেই সারা দেশ চেনে 'মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া' নামে। হার্ডল যাই হোক, স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না কিছুই, নিজের গোটা জীবন দিয়ে সে কথা প্রমাণ করে গেছেন পরমাণু বিজ্ঞানী তথা আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম (A. P. J. Abdul Kalam)।

১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে এক তামিল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল কালাম। খুব সাধারণ পরিবার, বাবা জয়নুল আবেদীন মাছ ধরার নৌকো চালাতেন, মা আশিয়াম্মা ছিলেন প্রায় নিরক্ষর গৃহবধূ। চার ভাইয়ের মধ্যে আব্দুল কালাম ছিলেন সবথেকে ছোট। ছেলেবেলা থেকেই তিনি পড়াশুনায় চৌকস, শেখার ইচ্ছেও ছিল প্রবল। মেধাবী ছাত্র হিসেবে গোড়া থেকেই মাস্টারমশাইদের চোখে পড়েছিলেন তিনি।
তিরুচিরাপল্লীর সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পদার্থ বিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তাঁর মন উড়তে চাইত আকাশে, কোয়ান্টাম ফিজিক্সের চৌহদ্দির ভিতর আনন্দ পেতেন না। মাদ্রাস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি ( MIT) তে ভর্তি হবেন বলে মনস্থির করলেন তরুণ কালাম। কিন্তু এম আই টিতে পড়াশোনার টাকা আসবে কোথা থেকে! এই আতান্তর থেকে ভাইকে বাঁচালেন দিদি জোহরা। নিজের সমস্ত সোনার গয়না বিক্রি করে ভাইয়ের হাতে সেদিন এম আই টি ভর্তির টাকা তুলে দিয়েছিলেন এক মিতবাক দিদি। ১৯৫৫ সালে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বেন বলে এম আই টি-তে ভর্তি হন আব্দুল কালাম (A. P. J. Abdul Kalam)।
ডঃ কালাম ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেছেন টানা চল্লিশ বছর। ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন ভারতের একাধিক অসামরিক মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তাঁর গবেষণা আর অবদান অনেকদিন আগেই মিথে পরিণত হয়েছে।
শুধু বিজ্ঞানী নন, তিনি ছিলেন এই দেশের ফার্স্ট পার্সন। ভারতের একাদশতম রাষ্ট্রপতি হিসাবে এ পি জে আবদুল কালাম (A. P. J. Abdul Kalam) শপথ নেন ২০০২ সালের ২৫ জুলাই। ২০০২-২০০৭ টানা ৫ বছর আসীন ছিলেন এই পদে।
বিজ্ঞান বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পাশাপাশি তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও জনসেবক। এই ভূমিকাতেই এ দেশের মানুষের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছেন 'মিসাইল ম্যান' আবদুল কালাম।