
সেফোলজিস্ট যোগেন্দ্র যাদব
শেষ আপডেট: 13 May 2024 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে বড় দাবি করলেন সেফোলজিস্ট যোগেন্দ্র যাদব। যোগেন্দ্র অবশ্য পষ্টাপষ্টিই জানিয়েছেন, এটা কোনও বুথ ফেরত সমীক্ষা নয়। কর্নাটক, তেলঙ্গনা, ছত্তীসগড়, রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও বিহার ঘুরে তিনি যা দেখেছেন, তার ভিত্তিতে এটা মোদ্দা গণিত।
যোগেন্দ্রর কথায়, এই ভোটে পাশা বদলানো শুরু হয়ে গিয়েছে। এবং তিনি সবচেয়ে বড় সত্যিটা এবার ফাঁস করতে চলেছেন। ভোটের বুথ ফেরত সমীক্ষা ও জনমত সমীক্ষা করার ব্যাপারে যোগেন্দ্রর অভিজ্ঞতা সুদীর্ঘ। তাঁর কথায় প্রায়, তিরিশ বছরের। এক সময়ে সিএসডিএসের সিনিয়র ফেলো ছিলেন তিনি। তার পর লোকনীতি নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে প্রাক ভোট জনমত সমীক্ষা করতেন বা বুথ ফেরত সমীক্ষা জানাতেন।
সোমবার যোগেন্দ্র দাবি করেছেন, তিনি রাজ্যওয়াড়ি ঘুরে যা বুঝেছেন তাতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনেক কম আসন পাবে। ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২৭২টি আসনে জেতা জরুরি। যোগেন্দ্রর মতে, তার অনেক নিচে নেমে যাবে বিজেপির আসন সংখ্যা। এমনকি শরিকদের নিয়ে এনডিএ-র আসন সংখ্যাও ম্যাজিক নাম্বার নাও ছুঁতে পারে।
গত লোকসভা ভোটে বিজেপি ৩০৩টি আসনে জিতেছিল। এনডিএ জিতেছিল ২৫৩টি আসনে।
লোকসভা ভোটের আগে গত বছর কর্নাটকে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতেছে কংগ্রেস। যোগেন্দ্র এদিন বলেন, কর্নাটকে মোট ২৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে গত ভোটে বিজেপি ২৬টি আসনে জিতেছিল এনডিএ। এবার অন্তত পক্ষে ১০টি আসন সেখানে হারাতে চলেছে তারা। তাঁর কথায়, ‘কম সে কম’ ১০টা আসন কমবে গেরুয়া শিবিরের।
মহারাষ্ট্রে ৪৮টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে জিতেছিল এনডিএ। যোগেন্দ্র দাবি করেছেন, মহারাষ্ট্রে খুব কম করে ২০টি আসন হারাতে চলেছে এনডিএ। অর্থাৎ খুব বেশি হলে ২২টি আসনে জিততে পারে এনডিএ।
রাজস্থান আর গুজরাতে যথাক্রমে লোকসভার ২৫টি ও ২৬টি আসন রয়েছে। এই ৫১টি আসনের ৫১টিতেই জিতেছিল বিজেপি। যোগেন্দ্রর দাবি, এই রাজ্য মিলিয়ে কম করে ১০টি আসন হারাতে চলেছে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, রাজস্থানে গত বছর বিধানসভা ভোটে দেখা যায় বিজেপি সরকার গড়তে সফল হলেও কংগ্রেসের সঙ্গে প্রাপ্ত ভোটের ফারাক ছিল খুবই।
যোগেন্দ্র যাদব এর পর হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি ও হিমাচল প্রদেশের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এই চার রাজ্যেই বিজেপি এবার বেশ চাপে রয়েছে। বিশেষ করে হরিয়ানায় সবচেয়ে চাপে রয়েছে বিজেপি। এই রাজ্যের ১০টি আসনের মধ্যে গত ভোটে ১০টিতেই জিতেছিল তারা। কিন্তু এবার সেই সম্ভাবনা যে অতিশয় ক্ষীণ তা অনেকেই বলছেন। যোগেন্দ্রর মতে, এই চার রাজ্য মিলিয়ে আরও অন্তত ১০টি আসন কমবে এনডিএ-র।
তাঁর হিসাবে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে কম করে ১০টি আসন বিজেপির কমবে। উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ মিলিয়ে মোট ৮৫টি আসনের মধ্যে বিজেপি গতবার ৬৯টি আসনে জিতলেও এবার তা অন্তত ১৫টি কমে যেতে পারে বলে তাঁর মত। শুধু যোগেন্দ্র নন, প্রথম তিন দফার ভোটের পর উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পক্ষে পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলে মনে করেছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
উত্তরপ্রদেশের পর যোগেন্দ্র বিজেপির হিসাব দিয়েছেন। বিহারে গিয়েছিলেন যোগেন্দ্র। পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে ঘুরে আসার পর তিনি মনে করছেন, সেখানেও এনডিএ-র বিপর্যয় হতে পারে। বিহারে ৪০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৯টিতে গতবার জিতেছিল বিজেপি। যোগেন্দ্র যাদবের দাবি, বিহারে এনডিএ কম করে ১৫টি আসন হারাতে চলেছে। অর্থাৎ তাঁর হিসাব অনুযায়ী বিহারে সবচেয়ে বেশি ২৪টি আসনে জিততে পারে এনডিএ।
অসম, উত্তর-পূর্বের বাকি ৬ রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে মোট ৬৫টি আসন রয়েছে। যোগেন্দ্রর দাবি এর মধ্যেও অন্তত ১০টি আসন কমবে এনডিএ-র। অর্থাৎ আজকের তারিখে সব মিলিয়ে এনডিএ-র ১০০ আসন কমতে পারে।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, বিজেপির আসন কোথায় বাড়তে পারে? যোগেন্দ্রর কথায়, তামিলনাডু, কেরল, ও তেলঙ্গনা মিলিয়ে খুব বেশি হলে ৫টি আসন বাড়তে পারে বিজেপির। আর অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নায়ডুর সঙ্গে জোটে থাকার কারণে ১০টি আসনের ফায়দা হতে পারে।
তাঁর কথায়, মোদ্দা গণিত হল গত বারের তুলনায় বিজেপির ৭০টি আসন কমতে পারে। অর্থাৎ ২৩৩টি আসন পেতে পারে বিজেপি। আর এনডিএ জোট পেতে পারে ৩৫টি আসন। এনডিএ মোট ২৬৮টি আসনে জিততে পারে। যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট নয়।
প্রবীণ এই সমাজকর্মী এদিন বলেন, “এতদিন ভোটের ভবিষ্যতের কথা বলতাম। কিন্তু আজ দেশের ভবিষ্যতের জন্য সেফোলজিস্ট হিসাবে এই গণিত প্রকাশ করছি। সংবাদমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে একটা ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, বিজেপি জিতে গেছে। তাই অনেকে বলছেন, আমি তো ভোট দেব না, কিন্তু জিতবে তো মোদীই। তাই বাস্তব ছবিটা দেশকে দেখানো দরকার বলে মনে করছি”।