
শেষ আপডেট: 3 March 2024 14:06
দ্য ওয়াল বুরো: জল্পনা ছিল অযোধ্যার রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র যে লোকসভা আসন এলাকার অংশ সেই ফৈজাবাদে ২০২৪-এ এমন একজন বিজেপির প্রার্থী হবেন যাঁকে গোটা দেশ চেনে। জল্পনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী পাঁচ বছর রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের সেবা করতে চান। বারাণসীর পরিবর্তে এবার তিনি ফৈজাবাদ থেকে লড়বেন। আলোচনায় ছিল এক বলিউড অভিনেত্রীর নামও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুণমুগ্ধ সেই অভিনেত্রী বিজেপি নেতাদের কাছে বাসনা ব্যক্ত করেছিলেন, ফৈজাবাদ থেকে প্রার্থী হতে চাই।
কিন্তু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার বিজেপি উত্তর প্রদেশের ওই হাই-প্রোফাইল আসন থেকে ফের বর্তমান সাংসদ লল্লু সিংকেই টিকিট দিয়েছে। তিনি ২০১৪ থেকে ফৈজাবাদের সাংসদ। ফৈজাবাদ শহর থেকে দু-আড়াই কিলোমিটার দূরের শহর অযোধ্যা, যেখানে নতুন তৈরি রাম মন্দির দর্শনের ভিড় লেগেই আছে রোজ।
একদা আরএসএসের প্রচারক বছর সত্তরের লল্লু সিং আইনের গ্র্যাজুয়েট। আইনকে পেশা হিসাবে না নিলেও অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিবাদে আদালতে ছোটাছুটির কাজ করেছেন নয়ের দশকের গোড়া থেকে। ফৈজাবাদ লোকসভার অন্তর্গত অযোধ্যা বিধানসভার চারবারের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০১৪-তে মোদী হাওয়ায় প্রথমবার সংসদে যান।
এমনিতে ফৈজাবাদ আসনটি বড় বিচিত্র। কোনও দলকেই বিমুখ করেননি এই এলাকার মানুষ। ১৯৭১ পর্যন্ত টানা কংগ্রেসের দখলে ছিল আসনটি। ১৯৭৭-এ জেতে জনতা পার্টি। তারপর পর্যায়ক্রমে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি এমনকী বাম দল সিপিআই-ও ফৈজাবাদ থেকে জিতে লোকসভায় গিয়েছে। সিপিআই নেতা মিত্রসেন যাদব কাস্তে ধানের শিস ছাড়াও সমাজবাদী পার্টির সাইকেল এবং বহুজন সমাজ পার্টির হাতি চিহ্নে লড়াই করে সংসদে যান।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাম জন্মভূমি এবং মন্দির আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি ফৈজাবাদে কোনও দিনই বড় মার্জিনে জেতেনি। গতবার লল্লু সিংহের জয়ের মার্জিন ছিল ৫০ হাজারের কিছু বেশি। সমাজবাদী পার্টির ভাল দখল আছে ওই আসনে।
এবারও বিজেপি লল্লু সিংকেই টিকিট দেওয়ার সম্ভাব্য তিনটি কারণ দলীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। এক. প্রার্থী বদল করলে বিরোধীরা আওয়াজ তোলার সুযোগ পেত, খাস রাম জন্মভূমিতেই বিজেপি সাংসদ কাজ করেননি। যদিও অযোধ্যা জুড়ে গত তিন-চার বছর যাবত কর্মযজ্ঞ চলছে। তাতে অবশ্য সাংসদের কোনও ভূমিকা নেই। বরং, অযোধ্যার রূপ বদলে দোকান-বাজার-ঘরবাড়ি-মন্দির-মসজিদের উপর হাত পড়েছে। পুরনো বাড়িঘর ভাঙাতে এলাকায় ক্ষোভও আছে। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, প্রার্থী বদল করলে ক্ষোভ, অভিযোগ মান্যতা পেয়ে যাবে যা অন্যত্র ভোটবাক্সে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
দুই. লল্লু সিং দলের একনিষ্ঠ নেতা। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ, তিনি অত্যন্ত লো-প্রোফাইল রক্ষা করে চলেন। সকলকে নিয়ে চলার মানুষ তিনি। তাঁকে সরিয়ে দিলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিতে পারে, এমন সম্ভাবনার বিষয়টি মাথায় রেখেও গেরুয়া শিবির প্রার্থী বদলের পথে হাঁটেনি।
তিন. বিজেপি নেতৃত্ব চাননি, রাম জন্মভূমি থেকে এমন কাউকে প্রার্থী করা হোক যাঁকে নিয়ে আলোচনা রামলালা চর্চাকে ছাপিয়ে যাক। যদিও অযোধ্যা মোদী এবং যোগীর মুখে ছয়লাপ। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অযোধ্যা সফরে এ বছরেই সেঞ্চুরি করার কথা যোগীর।